Playlet

বিজয়ের ধ্বনি [বাংলা নাটিকা; Bangla Playlet]

[১৯৭১ সাল স্কুলমাঠের ঠিক মাঝখানে বস্তার মতন স্তূপ করে রাখা লাশ আর লাশ! এরা সবাই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের বলী হতে হয়েছে লাখো নারী পুরুষদের শান্তিপুর গ্রামের নিরীহ দিনমজুর আব্বাস মিয়া তার ২২ বছরের ধর্ষিতা কন্যা কৈতরি বেগমের লাশের সামনে বসে শিশুর মতন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন]


আব্বাসঃ কুত্তার বাইচ্চা পাকিস্তানীরা আমার ফুলের মতন নিষ্পাপ মাইয়াডারে মাইরা ফালাইলো হে আল্লাহ্, তুমি জুলুমবাজগো উফরে ঠাডা ফালাও! তুমি তাগোরে উচিত শিক্ষা দেও আল্লাহ্‌!


[আব্বাস কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তার স্ত্রী জইমুনা বেগম দৌড়ে এসে স্বামীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে]


জইমুনাঃ [আব্বাসের মাথা কোলে নিয়ে হাত বুলাতে বুলাতে বলে] কৈতরির বাপ! ও কৈতরির বাপ! তোমার কি অইলো? চোখ মেইল্লা চাও! ও কৈতরির বাপ!


[আব্বাসের ১৫ বছর বয়সী ছেলে রতন মায়ের কাঁধ ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলে]


রতনঃ মা! ও মা! মাগো!


জইমুনাঃ [প্রচণ্ড রেগে গিয়ে রতনকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে বলে] কসনা কি?


রতনঃ [ভয়ে বেলুনের মতন চুপসে গিয়ে বলে] মা, আমার মনে অইতাছে আব্বা বেহুঁশ অইয়া গেছে!


জইমুনাঃ [রতনের হাত ধরে সজোরে ঝাঁকি দিয়ে বলে] দূর হ আমার চক্ষের সামনে থাইকা! যা 


[এমন ধমক খেয়ে রতন চোরের মতন দৌড় দিয়ে পালিয়ে যায়]


[অনেকক্ষণ ধরেও আব্বাসের হুঁশ না ফেরার ফলে তার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনরা তাকে ধরাধরি করে হাসপাতালের দিকে নিয়ে যায় এখন মঞ্চে আছে শোকাহত ও ক্রোধান্বিত জইমুনা, প্রতিবেশী কিছু মহিলা ও স্বজন]


জইমুনাঃ [ক্রোধে ফেটে গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে বলে] আমি যুদ্ধে যামু! আমি পরতিশোধ নিমু আমি হক্কল পাকিস্তানীগোরে শেষ কইরা ফালাইমু! কেউ আমারে একখান বন্দুক আইনা দেও!


[প্রতিবেশী আফরোজা বানু জইমুনাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে]


আফরোজাঃ [মাটিতে বসে থাকা জইমুনার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে] কান্দিস না রে বইন, কান্দিস না! বেশি বেশি কইরা আল্লাহ্‌রে ডাক, আল্লায় সব ঠিক কইরা দিবো!


জইমুনাঃ আমি কান্দুম না তো কি করুম বইন? আমার ফুলের লাহান মাইয়াডারে ঐ জানোয়ারের দল জন্তুর লাহান শেষ কইরা ফালাইলো! অহন আমি কি লইয়া বাঁচুম, আল্লাহ্‌!


আফরোজাঃ [জইমুনাকে ধরে ধীরে ধীরে তুলতে তুলতে বলে] চল জইমুনা, ঘরে চল আর কান্দিস না! ধৈর্য ধর, আল্লাহ্‌ হক্কলতা ঠিক কইরা দিবো


[আফরোজা জইমুনাকে ধরে ধীরে ধীরে মঞ্চের বাইরে নিয়ে যায় মঞ্চে থাকা অন্যান্য মহিলা ও পুরুষরাও প্রস্থান করে]


[হতাশাগ্রস্ত ও তীব্রভাবে ক্রোধান্বিত রতন বটগাছের নিচে বসে গাছের পাতা চিবাতে চিবাতে ফুঁসতে থাকে কিছুই ভালো লাগে না তার মনে হয় যেন সবকিছু ভেঙেচুড়ে চুরমার করে দেবে আজ! অকস্মাৎ বটগাছের শিকড়ের এক কোণায় কিছু একটার দিকে দৃষ্টি পড়ে তার কাছে গিয়ে দেখে লাঠির মতন দেখতে কি যেন একটা পড়ে আছে হাতে নিতেই দেখতে পায় সেটা একটা বন্দুক! সেটা হাতে পেয়ে রতনের সারা দেহে এক অদ্ভুত আলোড়ন সৃষ্টি হয় সে বন্দুকটি আকাশে উঁচিয়ে ধরে খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে বলে]


রতনঃ আমি যুদ্ধে যামু! আমি যুদ্ধে যামু! আমি হক্কল পকিস্তানী শয়তানগুলারে শেষ কইরা ফালামু! ইয়া আল্লাহ্‌, তুমি আমারে শক্তি দেও! শক্তি দেও! শক্তি দেও!


[রতন ট্রিগারে চাপ দিতেই একটি গুলি আকাশপানে ছুটে যায়! গুলির শব্দ শুনে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া রতনের কয়েকজন বন্ধু বটগাছের নিচে ছুটে আসে তাদেরকে দেখে রতনের উত্তেজনা যেন আরও শতগুণ বেড়ে যায় রতন আকাশের দিকে আরেকটি গুলি ছুঁড়ে চিৎকার দিয়ে বলে]


রতনঃ আমি যুদ্ধে যামু! আমি যুদ্ধে যামু!


রতনের বন্ধুরাঃ আমরাও যুদ্ধে যামু! যুদ্ধে যামু! যুদ্ধে যামু!


[রতনকে দৌড়ে চলে যেতে দেখে তার বন্ধুরাও তার পেছনে ছুটে যায় সবাই মঞ্চ ত্যাগ করে]

 

 

[সমাপ্ত]

View kingofwords's Full Portfolio
tags:

বিজয় দিবস! [বাংলা নাটিকা; Bangla Playlet]

[ম্যাডাম ক্লাসে প্রবেশ করতেই ছাত্রছাত্রীরা সবাই সমস্বরে গুড মর্নিং মিস বলে উঠে। ম্যাডাম বই, ডাস্টার ও রোলকলের রেজিস্টার খাতা টেবিলে রেখে ছাত্রছাত্রীদের দিকে তাকিয়ে বলেন।]

 

ম্যাডামঃ আগামীকাল কতো তারিখ বলোতো?


ছাত্রছাত্রীঃ ১৬ই ডিসেম্বর মিস!


ম্যাডামঃ গুড, ঠিক বলেছো! ১৬ই ডিসেম্বর ঠিক কি কারণে বিশেষ একটি দিন সেটি কি কেউ বলতে পারবে?

 

[অনেকেই হাত তুলে হ্যাঁ সূচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। ম্যাডাম তাদের মধ্য থেকে একজনকে দাঁড়িয়ে উত্তরটি দিতে বলেন। মেয়েটির নাম জয়িতা।]

 

ম্যাডামঃ তুমি বলোতো জয়িতা! 


জয়িতাঃ ম্যাডাম, ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত বিশেষ একটি দিন কারণ এই দিনটিতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তানীদের হাত থেকে বিজয় লাভ করে!


ম্যাডামঃ ভেরি গুড জয়িতা! তুমি একদম সঠিক উত্তরটি দিয়েছো।


জয়িতাঃ থ্যাংক ইউ সো মাচ ম্যাডাম!   

 

ম্যাডামঃ মোস্ট ওয়েলকাম!


জয়িতাঃ পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে কতোদিন যুদ্ধ করার পর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে সেই উত্তরটা কি কারো জানা আছে? দেখি, হাত তোলো?

 

[এই প্রশ্নের উত্তরে মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী হাত তুলেছে।]

 

ম্যাডামঃ বিজয়া, তুমি বলতো উত্তরটা।


বিজয়াঃ ১০ মাস যুদ্ধ করার পর ম্যাডাম।


ম্যাডামঃ উহু, একটুর জন্য হয়নি!


বিজয়াঃ তাহলে কতো মাস মিস?


ম্যাডামঃ উত্তরটা হবে ৯ মাস।


রিদানঃ মুক্তিযুদ্ধ কেন এবং কাদের বিরুদ্ধে হয়েছিলো ম্যাডাম?


ম্যাডামঃ তুমি খুব সুন্দর প্রশ্ন করেছো রিদান। শোনো তাহলে, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা সমগ্র ভারতবর্ষকে দুই ভাগ করে ভারত এবং পাকিস্তান নামক দুটো রাষ্ট্রের সৃষ্টি করলো। সদ্য জন্ম নেয়া পাকিস্তান রাষ্ট্রটি পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। শুরুতে সব ঠিকই ছিল কিন্তু যতোই সময় গড়িয়ে চললো, পাকিস্তানী সরকার পশ্চিম পাকিস্তানকে সব রকম সুযোগ সুবিধা দিচ্ছিল; সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, কলকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি পুরোদমে পশ্চিম পাকিস্তানে গড়ে তোলা হচ্ছিলো। মোটকথা হচ্ছে এই যে পশ্চিম পাকিস্তানীরা সবরকম সুযোগসুবিধা ভোগ করছিলো, অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তানীরা সবকিছু থেকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হচ্ছিলো।  


রিদানঃ মুক্তিযুদ্ধ ঠিক কবে শুরু হয়েছিলো ম্যাডাম?


ম্যাডামঃ ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানভিত্তিক সামরিক জান্তা পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের উপর অপারেশন সার্চলাইট নামক ভয়ংকর গণহত্যা শুরু করে।


বিজয়াঃ তাহলে কেন ২৬ মার্চ ১৯৭১-কে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস বলা হয়? পাশাপাশি অনুগ্রহ করে এই অপারেশন সার্চলাইট সম্পর্কে যদি একটু বিস্তারিত বলতেন?


ম্যাডামঃ হ্যাঁ, তোমার দুটি প্রশ্নের উত্তর আমি একসাথেই দিচ্ছি। শোনো, অপারেশন সার্চলাইট হচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তানী সামরিক জান্তাদের করা অত্যন্ত নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ড যার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানী নিস্পাপ ও নিরস্ত্র আমজনতা, ছাত্রছাত্রী, বুদ্ধিজীবী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এবং সশস্ত্র বাহিনীর লোকদেরকে অন্যায়ভাবে ও নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিলো! ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী শেখ মুজিবুর রহমানকে  গ্রেপ্তার করলোএমনটা ধারণা করা হয় যে তিনি গ্রেপ্তার হবার একটু আগে ২৫শে মার্চ রাত ১২টার পর (অর্থাৎ, ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন যা চট্টগ্রামে অবস্থিত তত্কালীন ই.পি.আর এর ট্রান্সমিটারে করে প্রচার করার জন্য পাঠানো হয়েছিলো।


রিদানঃ ঘোষণাটি ঠিক কি ছিলো?  


ম্যাডামঃ ঘোষণাটির বাংলা অনুবাদ হলো এমন- এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীনআমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যানবাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উত্খাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক” পরে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ২৭শে মার্চ  পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন

   

বিজয়াঃ মেজর জিয়াউর রহমান যে ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেছিলেন সেটি কেমন ছিলো?


ম্যাডামঃ ইংরেজিতে পাঠ করা সেই ঘোষণাপত্রটির অনুবাদ হলো এমনঃ আমি, মেজর জিয়া, বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির প্রাদেশিক কমাণ্ডার-ইন-চিফ, শেখ মুজিবর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। আমি আরো ঘোষণা করছি যে, আমরা শেখ মুজিবর রহমানের অধীনে একটি সার্বভৌম ও আইনসিদ্ধ সরকার গঠন করেছি যা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের সরকার জোট-নিরপেক্ষ নীতি মেনে চলতে বদ্ধপরিকর। এ রাষ্ট্র সকল জাতির সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং বিশ্বশান্তির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। আমি সকল দেশের সরকারকে তাদের নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। শেখ মুজিবর রহমানের সরকার একটি সার্বভৌম ও আইনসম্মত সরকার এৰং বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাবার দাবিদার


রিদানঃ কি নাটকীয় ঘটনাগুলো!  


বিজয়াঃ হুম, আমারতো ভেবেই গায়ের পশম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে!


ম্যাডামঃ পশ্চিম পাকিস্তানীরা যাচ্ছেতাই করছিলো। নীতি-নৈতিকতার কোনও বালাই ছিল না তাদের মধ্যে। তারা ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল অন্যায়ভাবে বাতিল করে দিয়েছিলো যেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে না পারেন!


সোহানঃ মুক্তিযুদ্ধে মোট কতোজন শহীদ হয়েছিলো?


ম্যাডামঃ ৩০ লক্ষ জন শহীদ হয়েছিলো!


বিজয়াঃ শুনেছি অসংখ্য নারীরাও নাকি তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছিলো।


ম্যাডামঃ তুমি ঠিকই শুনেছো। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় ২,০০,০০০ নারী ধর্ষিত হয়েছিলো এবং তাদের গর্ভে অনেক যুদ্ধশিশু জন্ম নিয়েছিলোপাকিস্তানি সৈন্যরা বহুসংখ্যক মেয়েকে ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো, যাদের মধ্যে বেশীরভাগই ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও সাধারণ পরিবারের মেয়ে

বিজয়াঃ কি বীভৎস!


রিদানঃ ম্যাডাম, আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে এতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়ে আলোকিত করার জন্য।


সোহানঃ আসলেই আজকে অনেক কিছু জানতে ও বুঝতে পেরেছি!  


ম্যাডামঃ [ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন] আজ তাহলে এ পর্যন্তই। কাল দেখা হবে। সবাই ভালো থেকো।

 

[ম্যাডাম ক্লাস ত্যাগ করতে যাচ্ছেন এমন সময় ক্লাসের সকল ছাত্রছাত্রীরা দাঁড়িয়ে সমস্বরে থ্যাংক ইউ সো মাচ বলে উঠে।]

 

ম্যাডামঃ [একটু দাঁড়িয়ে, মুচকি হেসে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন] ইউ অল আর মোস্ট ওয়েলকাম!  

 

[ম্যাডাম ক্লাসরুমের বাইরে চলে যান অর্থাৎ মঞ্চ ত্যাগ করেন।]

 

 

[সমাপ্ত]

View kingofwords's Full Portfolio
tags:

বৃক্ষ [বাংলা নাটিকা; Bangla Playlet]

[গ্রামের চেয়ারম্যান শিকদার আহমেদ ও তার চাকর মদন মঞ্চে প্রবেশ করে। চেয়ারম্যান একটি চেয়ারে বসেন। মদন তার পায়ের কাছে বসে আছে।]

 

চেয়ারম্যানঃ [মুচকি হেসে চাকর মদনকে বলেন] নদীর ধারের বিশাল বটবৃক্ষ কেটে বিক্রি করলে লাখ লাখ টাকা পাওয়া যাবে তাই না রে মদন?

মদনঃ [চেয়ারম্যানের পা টিপতে টিপতে বলে] জি হুজুর! একশত ভাগ খাঁটি কথাই বলেছেন! আপনি চেয়ারম্যান, আপনি চাইলে যে কোনো সময় বটগাছ কেটে ফেলতে পারেন।

চেয়ারম্যানঃ হুম, তা পারি, তবে গ্রামের মাস্টার শক্তি ইসলাম এটার বিপক্ষে কথা বলবে এ কথা চোখ বন্ধ করেই বলা যায়। এমনও হতে পারে যে গাছটি যেন না কাটা হয় সেজন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে আমার বিপক্ষে খেপিয়েও দিতে পারে!

মদনঃ তা আপনি মন্দ বলেন নাই চেয়ারম্যান সাহেব। তবে সমস্যা থাকলে সমাধানও আছে।

চেয়ারম্যানঃ সমাধান? কি রকম?

মদনঃ সেই শক্তি মাস্টার যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে তাহলে কয়েকজন মাস্তান পাঠিয়ে তাকে শায়েস্তা করে দিলেই হয়।

চেয়ারম্যানঃ দেখি কি করা যায়? অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

মদনঃ বেয়াদবি মাফ করলে একটা কথা বলতাম!

চেয়ারম্যানঃ বল।

মদনঃ আপনি যদি মানুষকে এই বলে বোঝান যে নদীর পার যেভাবে ভাঙছে, তাতে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বটগাছটি নদীর বুকে বিলীন হয়ে যাবে। তার আগেই যদি আপনি গাছটি কেটে সেটির কাঠ গ্রামের উন্নয়নের কাজে লাগানোর কথা বলেন, তাহলে সবাই খুব খুশিই হবে। সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না!

চেয়ারম্যানঃ তোর কথায় যুক্তি আছে রে মদন! এক কাজ কর, তুই এক্ষুনি গিয়ে ফরিদকে আসতে বল। আমি আজ রাতেই গাছ কাটা শুরু করে দিতে চাই। এই গ্রামে ফরিদ ছাড়া এতো বড় গাছ কাটার কাজ আর কারো দ্বারা সম্ভব নয়। যা, জলদি যা!

মদনঃ কিন্তু, চেয়ারম্যান সাহেব, রাত ১২টায় গাছ কাটা শুরু করলেও রাতের মধ্যেই এত্ত বড় গাছ কাটা সম্ভব হবে কিনা সন্দেহ আছে!

চেয়ারম্যানঃ তোর কথা ঠিক। তবে সারারাত কাটতে থাকলে অন্তত অর্ধেক পর্যন্ত কাটা হবে এটা নিশ্চিত। সেটাও মন্দ নয়। বাকি অর্ধেকটা সকালে কাটবে।

মদনঃ দিনের আলোতে সবাই গাছ কাটা দেখলে বিভিন্ন কটু মন্তব্য করবে, বিশেষ করে শক্তি মাস্টারের কানে কথাটা যাবার সাথে সাথেই তিনি বেগুনের মতন ছ্যাঁত করে জ্বলে উঠবেন, তখন কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন চেয়ারম্যান সাহেব?

চেয়ারম্যানঃ তুই এতো দুশ্চিন্তা করিস নাতো! ফরিদকে আসার খবর দেবার পর কালু গুন্ডাকে বলিস যে আমি সালাম জানিয়েছি। মনে থাকবেতো?

মদনঃ জি চেয়ারম্যান সাহেব, মনে থাকবে। আপনার অনুমতি নিয়ে আমি তাহলে আসি। আসসালামুয়ালাইকুম।

চেয়ারম্যানঃ ওয়ালাইকুমআসসালাম।

 

[মদন মঞ্চ ত্যাগ করে। একটু পর চেয়ারম্যানও মঞ্চ ত্যাগ করেন।]

 

[মদন ফরিদ এবং কালু গুণ্ডাকে সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করে চেয়ারে বসে। একটু পর চেয়ারম্যান মঞ্চে প্রবেশ করেন।]

 

ফরিদ, মদন ও কালুঃ [চেয়ারম্যানের উদ্দেশে] আসসালামুয়ালাইকুম।  

চেয়ারম্যানঃ ওয়ালাইকুমআসসালাম। ফরিদ, আজ রাতেই নদীর পারের বটগাছ কাটা শুরু করতে হবে, বুঝেছো?

ফরিদঃ আজ রাতেই চেয়ারম্যান সাহেব?

চেয়ারম্যানঃ হুম, আজ রাতেই, আর দেরী করা ঠিক হবে না। তুমি তাহলে এখুনি গিয়ে তোমার লোকজন ও যন্ত্রপাতি যোগাড় করে প্রস্তুত থাকো।

ফরিদঃ জি চেয়ারম্যান সাহেব, আসসালামুয়ালাইকুম। 

চেয়ারম্যানঃ ওয়ালাইকুমআসসালাম।

 

[ফরিদ মঞ্চ ত্যাগ করে।]

 

চেয়ারম্যানঃ কালু!

কালুঃ জি চেয়ারম্যান সাহেব।

 

[চেয়ারম্যান হাতের ইশারায় কালুকে সামনে আসতে বলেন। তিনি কালুকে কানে কানে কি যেন বলেন। মদন কোনও কথা না বলে একটি ছোট লাঠি হাতে নিয়ে মাটিতে এলোমেলোভাবে কিছু একটা আঁকছে।]

 

চেয়ারম্যানঃ আমার কথা বুঝতে পেরেছোতো কালু?

কালুঃ জি চেয়ারম্যান সাহেব, সব পানির মতন পরিস্কার!

চেয়ারম্যানঃ তাহলে যাও, কাজে নেমে পড়ো!

কালুঃ জি চেয়ারম্যান সাহেব, আসসালামুয়ালাইকুম। 

চেয়ারম্যানঃ ওয়ালাইকুমআসসালাম।

 

[রাত ১১:৩০ বাজে। ফরিদ তার দলবল নিয়ে বটগাছ কাটা শুরু করে দিয়েছে। কালু গুন্ডা ও তার সাগরেদরা শক্তি মাস্টারের হাত পা বেধে মঞ্চে নিয়ে আসে। মাস্টারের মুখে কাপড় আঁটা। তিনি কথাও বলতে পারছেন না।] 

 

কালুঃ [শক্তি মাস্টারের মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে বলে] মাস্টার! তোমার পাখা গজিয়েছে তাই না? উড়তে চাও?

শক্তিঃ আমি ভালো করেই জানি তোমাদের আসল নেতা কে। আমি এও জানি যে তোমরা নিশ্চয়ই গ্রামে কোনও বড় লুটপাটের কাজ শুরু করে দিয়েছো! তোমরা খুব ভালো করেই জানো যে আমি জানতে পারলে অবশ্যই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো। তাই প্রতিবাদ করার কোনও সুযোগ না দিতে আমাকে এভাবে অপহরণ করা হয়েছে। মনে রেখো, সত্যের জয় হবে নিশ্চয়! অন্যায়ের হাত দেখতে যত মজবুত হোক না কেন, সত্যের কঠোর আঘাতে সে চুরমার হবেই হবে!

কালুঃ [তার মাস্তান সাগরেদদের উদ্দেশে বলে] মাস্টারের সাহস দেখ! বাঘের খাঁচায় থেকেও তর্জন গর্জন করেই যাচ্ছে!

শক্তিঃ [পরিহাসের হাসি হেসে] তোমরা বাঘ! হাসালে আমায়! তোমরা হলে গিয়ে কদর্য কুকুরের পাল!

কালুঃ [রেগে গিয়ে মাস্টারের কলার চেপে ধরে] কি বললি? সাহস থাকলে আরেকবার বলতো?

শক্তিঃ তোরা সব কুকুরের চেয়েও অধম, নিকৃষ্ট!

 

[কালু ভীষণ রেগে গিয়ে মাস্টারকে এলোপাথাড়ি কিল আর ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে মাস্টারের নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে থাকে।]

 

কালুঃ [ঘাবড়ে গিয়ে সাগরেদ বিধানকে বলে] কি রে, শালা মরেটরে গেলো নাতো?

বিধানঃ [মাস্টারের শ্বাস প্রশ্বাস পরীক্ষা করে ভয়ে বলে] ওস্তাদ! মাস্টার ফিনিশ!

কালুঃ এ্যা! কি বলছিস? মরে গেছে!

বিধানঃ হ, ওস্তাদ! মইরা গেছে!

কালুঃ [সাগরেদদের উদ্দেশে বলে] এই চল, চল, আর দেরী করা যাবে না! চল তাড়াতাড়ি পালাই! যা হবে পরে দেখা যাবে! চল!

 

[কালু তার পাঁচজন সাগরেদ নিয়ে দৌড়ে মঞ্চ ত্যাগ করে।]

 

[মঞ্চে পুলিশ প্রবেশ করেন। তারা মাস্টারের লাশের সামনে আসেন। গ্রামের কয়েকজন মানুষ এসে লাশটির চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের চোখে জল।]

 

ওসি সাহেবঃ [দুইজন গ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেন] আপনারা একটু কষ্ট করে লাশটা উঠিয়ে ঐ দূরে দাঁড়ানো এ্যাম্বুলেন্সে দিয়ে আসেনতো।

 

[দুইজন গ্রামবাসী লাশটি কাঁধে নিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এ্যাম্বুলেন্সের উদ্দেশে এগিয়ে যেতে যেতে মঞ্চ ত্যাগ করে। পুলিশরাও মঞ্চ ছেড়ে চলে যান।]

 

[বিধান হাঁপাতে হাঁপাতে ভীত হয়ে মঞ্চে প্রবেশ করে। তার পেছনে কয়েকজন পুলিশ এসে তার ঘাড় ধরে। বিধান মঞ্চে পড়ে গিয়ে শুয়ে পড়ে।]

 

ওসি সাহেবঃ [রেগে চিৎকার করে] হারামজাদা বল, মাস্টার সাহেবকে কে খুন করেছে?

বিধানঃ [কাঁদতে কাঁদতে বলে] আমি জানি না স্যার!

ওসি সাহেবঃ [রাগে দাঁত কিড়মিড় করে তার পিঠে জোরে লাথি দিয়ে বলে] বল শালা!

বিধানঃ কালু গুণ্ডায় মারছে স্যার!

ওসি সাহেবঃ কালু গুন্ডা?

বিধানঃ হ স্যার!

ওসি সাহেবঃ সত্যি বলছিসতো? নাকি আসল খুনিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিস বদমাইশ?

বিধানঃ [কাঁদতে কাঁদতে বলে] না, স্যার, হাছা কইতাছি! এক্কেরে ভগবানের কিড়া!

 

[পুলিশরা বিধানকে ধরে মঞ্চের বাইরে চলে যান।]

 

[হাঁপাতে হাঁপাতে কালু গুন্ডা মঞ্চে প্রবেশ করে। পুলিশ তার পেছনে এসে দাঁড়ান।]

 

ওসি সাহেবঃ কালু! তোর সাগরেদ বিধান আমাদেরকে সবকিছু টিয়া পাখির মতন বলে দিয়েছে। সুতরাং, তুই আর লুকোচুরি খেলার চেষ্টা না করে চুপচাপ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবটা বল, যদি কিছু লুকানোর চেষ্টা করিস তাহলে কিন্তু তোর হাড্ডিগুড্ডি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবো।

কালুঃ স্যার, ঐ চেয়ারম্যান আমাকে বলেছিলো যে নদীর পারের বটগাছটি কাটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন আমি শক্তি মাস্টারকে আমার আস্তানায় বেধে রাখি। আমি সেই নির্দেশ মেনেই মাস্টারকে আমার আস্তানায় নিয়ে যাই ঠিকই তবে মাস্টার আমাকে কুকুর বলে অপমান করায় আমার মাথায় রক্ত উঠে যায়। তখন আমি প্রচণ্ড রেগে গিয়ে তাকে বেদম প্রহার করায় তার মৃত্যু হয়। বিশ্বাস করুন স্যার, মাস্টারকে হত্যা করা আমাদের কারোই উদ্দেশ্য ছিল না। এটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে হয়ে গেছে।

ওসি সাহেবঃ এভাবে গাছ কাটা অন্যায় এ কথা কি তোরা জানিস না? যেমন কর্ম তেমন ফল! পাপ বাপকেও ছাড়ে না! এবার আজীবন জেলে পচে গলে মরবি! আর ঐ চেয়ারম্যানও তোদের সাথে জেলের ঘানি টানবে!

 

[পুলিশ কালুকে সঙ্গে নিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করেন।]

 

[চেয়ারম্যান কাঁদো কাঁদো ভঙ্গীতে মঞ্চে প্রবেশ করে। তার হাত দড়ি দিয়ে বাধা। পুলিশ তার পেছনে দাঁড়িয়ে। চেয়ারম্যান কাঁদতে কাঁদতে মঞ্চ ত্যাগ করেন। পুলিশও তার পেছনে হাঁটতে হাঁটতে মঞ্চের বাইরে চলে যান।] 

 

 

[সমাপ্ত]

View kingofwords's Full Portfolio
tags:

বৈশাখ [বাংলা নাটিকা; Bangla Playlet]

[একটি বিশাল বিপনি বিতানের সামনে দাঁড়িয়ে ছোট্ট মেয়ে জবু তার মা রিতা আক্তারকে বলছে।]

 

জবুঃ মা, মা, দেহো, দেহো! কত্ত বড় মার্কেট!


রিতাঃ [মার্কেটের দিকে তাকিয়ে] হ, মেলা বড় মার্কেট!


জবুঃ [মায়ের শাড়ির আঁচল ধরে টানতে টানতে] মা, মা, চলো না তুমি আমারে এই মার্কেট থাইক্কা ড্রেস কিন্না দেও না! পয়লা বৈশাখের দিন আমি হেই ড্রেস পরুম! দেও না!

 

রিতাঃ না! চল তোরে ঐ রাস্তার লগের হকার্স মার্কেট থাইক্কা একটা সুন্দর রং চইঙ্গা ড্রেস কিন্না দিমু, চল!


জবুঃ [কান্নাজড়িত কণ্ঠে] না, না, না, হেইবারও তুমি ঐ হকার্স মার্কেট থাইক্কা ড্রেস কিন্না দিছিলা, দুইদিন যাইতে না যাইতেই ড্রেস ছিঁড়রা বিড়রা তেনা হইয়া গেছে!


রিতাঃ বড় মার্কেট থাইক্কা ড্রেস কিন্না দেওনের মতন এতো টেকা কি আর আমরার আছে ক? তুইতো ভালা কইরাই জানস যে তোর বাপে রিক্সা চালায়। হারাদিন রিক্সা চালাইয়া কতো টেকা রোজগার অয় ক? তোর এক ড্রেসের পিছে যদি এতো টেকা খরচা হইয়া যায়, তাইলে মাসের খরচা কেমনে হইবো একটু চিন্তা কইরা দেখ?


জবুঃ [কাঁদতে কাঁদতে] না, না, না, আমি কিচ্ছু জানি না! আমারে ঐ মার্কেট থাইক্কাই ড্রেস কিন্না দিতে হইবো কইয়া দিলাম। নাইলে কিন্তু আমি ড্রেস পরুম না!


রিতাঃ [কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে বিরক্ত হয়ে] উফ! বাপ রে বাপ! এই পাগলী মাইয়াডারে লইয়াতো মেলা ঝামেলায় পড়লাম দেহি! এমনেই মেলা দেরী হইয়া গেছে! চল, জলদি হকার্স মার্কেট যাইতে হইবো, চল।


জবুঃ [রিতা হাত ধরে জোরে টানতে থাকে কিন্তু জবু কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে পড়ে গিয়ে বলে] আমি হকার্স মার্কেট যামু না! আমি এই বড় মার্কেটে যাইতে চাই।      


রিতাঃ হায়রে আল্লাহ্‌! আমারে তুমি রক্ষা করো! এই মাইয়াডারে যে আমি কেমনে বুঝাই?

 

[এমন সময় মার্কেটের সামনে একটি বিলাসবহুল গাড়ি এসে থামে। গাড়ি থেকে মা লুবনা জেফরিন তার ছোট ছেলে আয়মানকে নিয়ে নামেন।]

 

লুবনাঃ [রিতাকে লক্ষ্য করে বলেন] এই মেয়ে, কি হয়েছে? ছোট মেয়েটি কে? ও এভাবে কাঁদছে কেন?


রিতাঃ এইডা আমার মাইয়া, জবু। হে জিদ ধরছে যে এই মার্কেট থাইক্কা ড্রেস কিন্না না দিলে নাকি হে পয়লা বৈশাখের দিন অন্য সস্তা কুনো ড্রেস পড়তো না! আমি তারে মেলা বুঝাইয়া কইছি যে এতো আমার কাছে এতো টেকা নাই। এতো দাম দিয়া এই মার্কেট থাইক্কা ড্রেস কিন্না দিবার ক্ষেমতা আমার নাই। কিন্তু মাইয়াডা লড়েও না, চড়েও না! রাস্তাত পইড়া পাগলীর লাহান কান্তাছে আর কান্তাছে!

 

[লুবনা আর কোনও কথা না বলে কান্নারত জবুর দিকে তাকিয়ে ছেলে আয়মানকে নিয়ে মার্কেটের ভিতরে প্রবেশ করেন। অর্থাৎ মঞ্চ ত্যাগ করেন। কিছুক্ষণ পর লুবনা ও আয়মান কয়েকটি ব্যাগ হাতে মঞ্চে প্রবেশ করে। তখনও রিতা ও জবু একই স্থানে বিদ্যমান। জবুর শখ পূরণ করতে না পারার দুঃখে রিতাও কাঁদছে।]

 

লুবনাঃ কি ব্যাপার? তোমরা এখনও এখানে আছো? ঘরে যাবে না?


রিতাঃ [কাঁদতে কাঁদতে বলে] ঘরে কেমনে যামু কন? মাইয়াডা এই জাগা থেইক্কা এক ইঞ্চিও লড়তাছে না!


লুবনাঃ [একটি ব্যাগ রিতার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলেন] এই নাও, এই ব্যাগে একটা সুন্দর ড্রেস আছে। এটা তোমার মেয়েকে দিও।

 

[এ কথা শুনে জবু কান্না থামিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে ঐ ব্যাগের দিকে তাকায়।]


আয়মানঃ কিন্তু মা তুমিতো এই ড্রেসটা আমার ছোট বোন ইরার জন্য কিনেছো।


লুবনাঃ [মায়াভরে কণ্ঠে আয়মানকে বুঝিয়ে বলেন] হ্যাঁ, আয়মান, তুমি ঠিকই বলেছো। সমস্যা কি বাবা? আমি না হয় তোমার বোনকে আরেকটা সুন্দর ড্রেস কিনে দেবো।  


রিতাঃ [কান্না থামিয়ে অবাক হয়ে বলে] না ম্যাডাম, না, আমরা গরীব হইতে পারি, তয় ভিক্ষা করি না। এই ড্রেস আমি নিতে পারুম না।


লুবনাঃ আরে বাবা নাও না, এটাকে ভিক্ষা মনে করছো কেন? মনে করো তোমার জবুকে আমি একটা উপহার দিয়েছি। উপহার হিসেবে নাও অন্তত, ধরো!


রিতাঃ [ইতস্তত বোধ করে ড্রেসটা হাতে নেয়] আফনের এই ঋণ যে আমি কেমনে শোধ করুম আমি জানি না!


লুবনাঃ কিসের ঋণ? কোনও কিছু শোধ করতে হবে না! [জবুর হাত ধরে মাটি থেকে উঠিয়ে বলেন] কি, জবু, এবার খুশীতো? [রিতাকে বলেন] যাও এবার তোমার মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যাও।


রিতাঃ আল্লাহ্‌ আফনারে আর আফনার পরিবারের বেবাকরে সুখে শান্তিতে রাখক আমি মন থাইক্কা এই দুয়া করি।

 

[লুবনা ও আয়মান মুচকি হাসতে হাসতে মঞ্চ ত্যাগ করে।]

 

রিতাঃ [জবুর মাথায় হাত বুলিয়ে হাসতে হাসতে খুশীতে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলে] চল মা জবু, বাড়িত চল। এই ল তোর সুন্দর ড্রেস। এইবার খুশী হইছসতো? চল!

 

[রিতা ধীরে ধীরে মঞ্চ ত্যাগ করতে থাকে।]

 

জবুঃ [খুশীতে লাফিয়ে লাফিয়ে মায়ের পিছু হাঁটতে হাঁটতে বলে] হে, হে, হে, কি মজা রে! পয়লা বৈশাখে আমি নতুন ড্রেস পরুম রে! কি মজা রে!

 

[রিতা ও জবু মঞ্চ ত্যাগ করে।] 

 

 

সমাপ্ত

View kingofwords's Full Portfolio
tags:

স্বাধীনতা [বাংলা নাটিকা; Bangla Playlet]

এইমাত্র পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আরও কিছু গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। গ্রামবাসীরা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছিল বলেই নাকি তাদের জন্য এমন শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে! চারিদিকে ধোঁয়া আর ধোঁয়া; লাশের গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

 

[রাইফেল হাতে দুই মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীন এবং বিজয় মঞ্চে প্রবেশ করেন]

 

স্বাধীনঃ [বিজয়কে বলেন] স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু হয়ে গেছে! ঐ পাক হানাদার বাহিনীর দিন শেষ! শালারা অনেক অত্যাচার জুলুম করেছে। অনেক হয়েছে! আর না! বাংলাদেশ স্বাধীন হতে আর বেশিদিন বাকি নেই।

বিজয়ঃ একদম আমার মনের কথাটাই বলেছো বন্ধু! পাকিস্তানি হায়েনারা চতুর্দিক থেকেই কোণঠাসা হয়ে গেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম এখন মুহূর্তের ব্যাপার মাত্র!

স্বাধীনঃ [তৃপ্তির হাসি হেসে] ভাবতেই ভালো লাগে বন্ধু, স্বাধীন বাংলাদেশের বিশুদ্ধ বাতাসে নিঃশ্বাস নেবে সকল বাংলাদেশি, এটি যে কত বড় গর্বের বিষয় সেটি আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না! [বলতে বলতে আবেগে স্বাধীনের চোখে পানি জমে]

বিজয়ঃ [খুশিতে হেসে] লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণ নরনারীসহ সকলের ত্যাগের ফল হতে যাচ্ছে এই স্বাধীনতা। অত্যাচারীরা বুঝে গেছে যে তাদের পরাজয় আসন্ন তাই তারা আরও বেশি অত্যাচার ও খুন করা শুরু করেছে। শুনেছি তারা নাকি দেশের বাঙালি বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, ডাক্তার প্রমুখ নাগরিকদের বেছে বেছে হত্যা করার পরিকল্পনা করছে!

স্বাধীনঃ [রেগে দাঁতে দাঁত চেপে বলেন] ঐ পাকিস্তানি শয়তানগুলো পরাজয় নিশ্চিত জেনে এই ঘৃণ্য কাজগুলো করছে। তারা ভালো করেই জেনে গেছে যে তাদের দিন শেষ! তাই যাবার আগে তারা বাংলাদেশের মেরুদণ্ড ভেঙে দেবার ষড়যন্ত্রে মেতেছে। শালা শয়তানের দল!

বিজয়ঃ কিন্তু মনে হয় তারা এটি ভুলে গেছে যে বাঙালি সাহসী এবং সংগ্রামি জাতি। যে কোনও প্রতিকূল পরিবেশে মানিয়ে নেবার এবং টিকে থাকার ক্ষমতা বাঙালির রক্তে মিশে আছে।       

স্বাধীনঃ সেটাই বন্ধু! সেটাই! এসব জুলুম অত্যাচার করেও পাকিস্তানিরা আমাদের মনোবল আগেও ভাঙতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না! দেশ স্বাধীন হবার পর আমরা সকল বাংলাদেশিরা মিলেমিশে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো!

বিজয়ঃ স্বাধীনতা আমাদের অধিকার! ঐ পাকিস্তানিরা অন্যায়ভাবে আমাদের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করতে পারে না। প্রতিবেশী দেশ ভারত আমাদের সাথে আছে এটি একটি আশাব্যঞ্জক ব্যাপার।

স্বাধীনঃ ঠিক কথা। ভারত আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে যেভাবে প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে তা এককথায় অসাধারণ!

বিজয়ঃ শুনেছি আমেরিকা নাকি পাকিস্তানিদের পক্ষে?

স্বাধীনঃ অন্যায়কারীদের পক্ষে থেকে কোনও লাভ নেই বন্ধু! অন্যায়ের পরিণতি কখনও ভালো হয় না। তুমি দেখে নিও, বিজয় আর কয়েকদিনের ব্যাপার মাত্র।

বিজয়ঃ [সন্তুষ্টির সাথে হেসে] দোয়া করি যেন তোমার কথাই সত্য হয়!

 

[হঠাৎ পাকিস্তানি সৈন্যদের উর্দু কথা বিজয় এবং স্বাধীনের কানে ভেসে আসে।]

 

স্বাধীনঃ [সাবধানী হয়ে আস্তে আস্তে বলেন] বন্ধু! আশেপাশে পাকিস্তানি শকুনের দল এসেছে মনে হয়! চলো কেটে পড়ি!

বিজয়ঃ [সাবধানী হয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে] হুম, চলো আপাতত এখান থেকে সরে যাওয়াই উত্তম।

 

[বিজয় এবং স্বাধীন মঞ্চ ত্যাগ করেন।]

 

[দুইজন পাকিস্তানি সেনা মঞ্চে প্রবেশ করে। একজন ওয়াসিম, আরেকজন আবেদ।]

 

ওয়াসিমঃ মুক্তিবাহিনী!

আবেদঃ মুর্দাবাদ!

ওয়াসিমঃ পাকিস্তানি!

আবেদঃ জিন্দাবাদ!

ওয়াসিমঃ [আশেপাশে সন্দেহের চোখে তাকিয়ে] না জানে কিউ মুঝে কুছ কুছ লাগ রাহাহে কে আসপাস কোই মুক্তিসেনা সাপকি তারহা ছুপকে বেয়ঠা হেয়!

আবেদঃ [সন্দেহে এবং আতংকে এপাশ ওপাশ তাকিয়ে] হা জনাব! মুঝে ভি এইসাহি লাগরাহাহে!

 

[রাইফেল তাক করা অবস্থায় বাংলাদেশ বাংলাদেশ বলতে বলতে বিজয় এবং স্বাধীন মঞ্চে প্রবেশ করেন। তাদের মাথায় বাংলাদেশের পতাকা লাগানো। ওয়াসিম এবং আবেদ পালাতে চাইলে বিজয় এবং স্বাধীন মুহূর্তেই রাইফেলের গুলিতে তাদেরকে ঝাঁঝরা করে দেন। ওয়াসিম এবং আবেদের রক্তাক্ত মৃত দেহ মঞ্চে পড়ে আছে। তাদের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে বিজয় এবং স্বাধীন আনন্দের হাসি হাসছে!]

স্বাধীনঃ [উচ্চস্বরে রাইফেল উঁচিয়ে বলেন] বাংলাদেশ জিন্দাবাদ!

বিজয়ঃ বাংলাদেশ জিন্দাবাদ!

 

[কয়েকবার বাংলাদেশ জিন্দাবাদ! বলতে বলতে বিজয় এবং স্বাধীন মঞ্চ ত্যাগ করেন।]

 

 

 

[সমাপ্ত]

View kingofwords's Full Portfolio
tags:

ছড়াই জ্ঞানের আলো [বাংলা নাটিকা: Bangla Playlet]

আজ আলোকিত মালিটারী ফুটন্ত অভিযান গ্রন্থাগারের ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এমন আনন্দঘন উপলক্ষে বাল্যকালের বন্ধু মামুনের সাথে লালমনিরহাটে ঘুরতে এসে কবি তার বন্ধুর নিজ হাতে গড়ে তোলা লাইব্রেরিতে গিয়ে বসেন। কবি এসেছেন শুনে এলাকার কৌতূহলী অনেক কিশোর ও যুবক তাঁকে একপলক দেখতে এবং ভাব বিনিময় করতে এসেছে।

 

[ধবধবে সাদা পাঞ্জাবী পরিহিত কবি মঞ্চে প্রবেশ করেন। তাঁর গালভরা কালো কুচকুচে দাড়ি দেখতে ঠিক তরুণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতন! তাঁর পেছনে মামুনও ধীর গতিতে হেঁটে আসছেন। তিনি এই গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা।]

 

কবিঃ [লাইব্রেরিতে প্রবেশ করে কক্ষের চারপাশে তাকিয়ে] বাহ! বেশ চমৎকার পাঠাগার! [মামুনের পীঠে হাত রেখে] বন্ধু! বেশ অসাধারণ একটি কাজ করেছো!

মামুনঃ [গর্বের সাথে হাসতে হাসতে] অনেক ধন্যবাদ বন্ধু! দোয়া করো যেন আমার স্বপ্ন সার্থক হয়!

কবিঃ [ভ্রূ কুঁচকে মুচকি হেসে] সার্থক হয় মানে? তুমিতো সফল হয়েই গেছো! লালমনিরহাটে এতো সুন্দর সাজানো গোছানো একটি পাঠাগার নির্মাণ করেছো, এটা কি সফলতা নয়?

মামুনঃ না, মানে, বলছিলাম কি- আমি এই লাইব্রেরিকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলতে চাই! এটির খ্যাতি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যেন বিদেশেও যেতে পারে এটাই আমার প্রাণের বাসনা বন্ধু!

কবিঃ [চেয়ারে বসতে বসতে বলেন] হুম! অতি উত্তম ইচ্ছা! আমি জানি একদিন তোমার এই স্বপ্ন সার্থক হবেই!

মামুনঃ শুরুতে যখন এলাকায় একটি পাঠাগার করার কথা কয়েকজনের সাথে আলোচনা করি, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বেশ ইতিবাচক হয়ে এগিয়ে যাবার অনুপ্রেরণা দিলেও অনেকে এটি নিয়ে সমালোচনা করতেও ছাড়েনি।

কবিঃ যে কোনও ভালো কাজ শুরু করলেতো সমালোচনা থাকবেই, তাই না? মিষ্টি গুঁড় থাকলে কিছু নচ্ছার মাছিও থাকবে! যারা হাল ছেড়ে না দিয়ে নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে কাজে নেমে পড়ে, ভবিষ্যতে তারাই সফল হয়।

মামুনঃ একেবারে আমার মনের কথাটাই বললে বন্ধু! তবে শুরুটা অনেক কষ্টের ছিল। নিজের যেটুকু সম্বল ছিল তাই দিয়ে কোনোভাবেই সবকিছু সামলানো যাচ্ছিল না। পরে আমার কিছু বন্ধু এবং এলাকার গণ্যমান্যদের সহযোগিতায় তিল তিল করে পাঠাগারটিকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে এসেছি।

কবিঃ [বইয়ের তাক থেকে একটি বই হাতে নিতে নিতে বলেন] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যথার্থই বলেছেন- ছোট ছোট বালুকণা/বিন্দু বিন্দু জল/গড়ে তোলে মহাদেশ/সাগর অতল! দশের লাঠি একের বোঝা বন্ধু!

মামুনঃ বন্ধু, তোমার সাথে দেখা করার জন্য, একটু কথা বলার জন্য বাইরে বেশ কিছু মানুষ অপেক্ষা করছে। যদি তোমার আপত্তি না থাকে তাহলে আমি তাদেরকে এখানে নিয়ে আসতাম! আসলে তারা তোমার কাছ থেকে একটু পরামর্শ, একটু অনুপ্রেরণা পেলেই কৃতজ্ঞ থাকবে।

কবিঃ [মুচকি হেসে] আরে না, না, আপত্তি থাকবে কেন? যাও তাদেরকে আসতে বলো।

মামুনঃ অনেক ধন্যবাদ বন্ধু! আসলেই তুমি মহান!

কবিঃ [লাজুক ভঙ্গীতে হেসে] মামুন, এসব বলে আমাকে লজ্জা দিও নাতো! যাও ওদেরকে নিয়ে এসো।

মামুনঃ ঠিক আছে।

 

[মামুন উঠে মঞ্চের বাইরে চলে যান। এদিকে কবি সেই বইটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকেন। মামুন বেশ কিছু মানুষ সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করেন। তাদেরকে দেখে কবি মুচকি হেসে উঠে দাঁড়ান।]

 

মামুনঃ এই যে, এরা সবাই তোমার এতোটাই ভক্ত যে তুমি কল্পনাই করতে পারবে না!

কবিঃ তাই নাকি?

মামুনঃ হ্যাঁ, তাই। তোমার প্রতিটি লেখা এদের পড়া। তোমার লেখা কবিতা, গল্প, উপন্যাস থেকে শুরু করে সব ধরণের লেখাই এরা মনোযোগ দিয়ে পড়ে।

কবিঃ [এক কিশোর ছেলের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলেন] কি নাম তোমার?

আলোঃ আমার নাম আলো।

কবিঃ আলো? বাহ বেশ সুন্দর নাম! শিক্ষার আরেক নাম আলো, জানোতো?

আলোঃ জানি! আপনার বই পড়ে আমরা অনেক নতুন নতুন জিনিস শিখতে পারি। আপনাকে এখানে আমাদের সামনে দেখতে পারবো, কথা বলতে পারবো এমনটা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি!

কবিঃ [সেখানে দাঁড়ানো সজলের হাতে ডায়রি দেখে সেটির দিকে অঙ্গুলি প্রদর্শন করে বলেন] তোমার হাতে ওটা কি? বই?

সজলঃ জি না, এটা একটি ডায়রি।

কবিঃ হাতে ডায়রি কেন?

সজলঃ এই ডায়রিতে আমার নিজের লেখা কিছু কবিতা আছে। আপনার অনুমতি পেলে সেখান থেকে একটি কবিতা পড়ে শোনাতে চাই। তাছাড়া ডায়রিতে আপনার একটি অটোগ্রাফও নিতে চাই!

কবিঃ [একটু অবাক হয়ে] বাহ! এইটুকুন বয়সে কবিতাও লিখো দেখছি! [আনন্দে মামুনের দিকে তাকিয়ে] মামুন, তোমাদের এলাকায় দেখছি অনেক মেধাবী তরুণ আছে!

মামুনঃ আছে, আসলে তাদের মেধার পরিপূর্ণ বিকাশের জন্যই আমার আপ্রাণ চেষ্টা। অন্যরাও যদি এইসব মেধাবী তরুণ তরুণীদেরকে সামনে এগিয়ে চলার পথ দেখিয়ে দেয়, তবে একটি সুন্দর সমাজ, জাতি তথা দেশ গঠন করা খুব কঠিন কিছু হবে না।

কবিঃ একদম খাঁটি কথা! [সজলের দিকে তাকিয়ে] কি নাম বললে যেন তোমার?

সজলঃ সজল।

কবিঃ ও হ্যাঁ, সজল! ঠিক আছে সজল। তুমি তোমার লেখা একটি কবিতা আবৃত্তি করো, আমরা সবাই শুনবো।

সজলঃ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমার এই কবিতাটির নাম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী!। এটি আবৃত্তি করার চেষ্টা করছিঃ


দেখতে দেখতে আরও একটি বছর গড়ালো,


ঠিক যেন ঘড়ির কাটার চাকার মতন,


আবারো প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী এলো!


আবারো হবে আনন্দের উন্মোচন!


 

হাসে মন শিশুর মতন,


অতি উল্লাসে মন আজ পায়রা!


উড়েই চলেছে দিগ্বিদিক বিলক্ষণ!


আনন্দের ভেলায় আজ ভাসছি মোরা!


 

নজরুলের মত বলি, “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!”


উজাড় করে মন আলিঙ্গন কর এই আনন্দের প্রহর!


 

[সজল কবিতাটি আবৃত্তি করা শেষ করেছে।]

 

কবিঃ [হাত তালি দিলে উপস্থিত অন্যরাও হাত তালিয়ে দেন। তালি দিতে দিতে কবি বলেন] বাহ! দারুণ! এককথায় অসাধারণ! যেমন সুন্দর শব্দের গাঁথুনি, তেমনি সুন্দর আবৃত্তি!

সজলঃ [আনন্দে আত্মহারা হয়ে] আপনার এতো ভালো লেগেছে শুনে অনেক অনেক খুশী হয়েছি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ!

কবিঃ ধন্যবাদ আমাকে নয়, ধন্যবাদ তুমি পাবার যোগ্য! সত্যি বলছি, এতো সুন্দর আবৃত্তি আমি খুব কমই শুনেছি!

 

[উৎসুক লোকের ভিড় বাড়তে থাকে। তাদের মধ্যে সৃজন নামে একজন যুবক ভিড় ঠেলে সামনে এসে বিনীতভাবে কবিকে প্রশ্ন করেন।]

 

সৃজনঃ হে পরম শ্রদ্ধেয় কবি! আমার নাম সৃজন। আপনি যদি আমাদেরকে ভবিষ্যতে সফল হবার জন্য কিছু মূল্যবান পরামর্শ দেন, তাহলে আমরা চির কৃতজ্ঞ থাকবো!

কবিঃ তরুণদের কিছু করার এই যে অদম্য ইচ্ছা সেটা জানতে পেরে আমার খুবই ভালো লাগছে। এই ইচ্ছাটাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। একটি ছোট চারা গাছ যেমন সময়ের সাথে সাথে বিশাল বটবৃক্ষে পরিণত হয়, ঠিক তেমনি তোমাদের এই ইচ্ছেগুলো স্বপ্ন হয়ে ভবিষ্যতে সফল মানুষে পরিণত করবে। আলো যেমন সূর্যের শক্তি, ঠিক তেমনি ইচ্ছেগুলো তোমাদের চালিকাশক্তি। জানোই তো- ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়!

সৃজনঃ আসলে আমি ব্যবসা করতে চাই কিন্তু আমার বাবা মা চান আমি পড়ালেখা শেষ করে ব্যবসা বা চাকরি যা ইচ্ছা করতে পারি। সত্যি কথা বলতে পড়ালেখা করতে আমার মোটেও ভালো লাগে না।

কবিঃ তোমার বাবা মার কথায় কোনও ত্রুটি নেই। আমি তাদের কথার সাথে একশো ভাগ একমত পোষণ করছি। দেখো, জীবনে যে পেশাই বেছে নাও না কেন, আগে নিজেকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তুমি যদি সত্যিকারের মানুষ হতে চাও, তাহলে পড়ালেখার কোনও বিকল্প নেই!

সৃজনঃ [কাচুমাচু করে] বেয়াদবি মাফ করবেন, এতো পড়ে কি হবে?

কবিঃ আমি আগেই বলেছি যে শিক্ষা মানে আলো। শুধুমাত্র একটি মোমবাতি যেমন অন্ধকার ঘরকে আলোকিত করে দেয়, ঠিক তেমনি বই পাঠ করে তুমি যে জ্ঞানের আলো অর্জন করবে, সেই আলোয় তুমিতো আলোকিত হবেই, পাশাপাশি তোমার আশেপাশের মানুষও আলোকিত হবে।

সৃজনঃ [বিনীতভাবে বলে] যদি আরেকটু বিস্তারিত বলতেন!

কবিঃ আসলে আমি যেটা বোঝাতে চাচ্ছি তা হচ্ছে এই যে তুমি জ্ঞানের মর্যাদা দিতে জানলে তোমার কাছ থেকে অন্যরাও অনেক কিছু শিখতে পারবে, জানতে পারবে। তোমার কাছ থেকে অন্যরা অনুপ্রাণিত হবে। তাছাড়া শিক্ষা তোমাকে সভ্য, মার্জিত ও মানবতাবাদী হতে শেখাবে। বর্তমানে সমাজে সত্যিকারের সভ্য এবং মানবিকবোধ সম্পন্ন মানুষের বড়ই অভাব!

সৃজনঃ [মুচকি হেসে বলে] জি জি, এখন বিষয়টি পানির মতন পরিস্কার। আপনার প্রতিটি কথাই মেনে চলবো। আমার জন্য দোয়া করবেন।

কবিঃ দোয়াতো সবসময় থাকবে। [সবার দিকে তাকিয়ে] আমার জন্যও তোমরা সবাই দোয়া করবে। তোমরা সবাই জীবনে ভালো মানুষ হও এবং কারো জীবনে যেন দুঃখের কালো ছায়া না আসে মন থেকে এই প্রার্থনাই করি। [মামুনের দিকে তাকিয়ে ঘড়ি দেখে বলেন] মামুন, আমাকে এখন উঠতে হবে।      

মামুনঃ [সকল উৎসুক জনতার দিকে তাকিয়ে বলেন] আপনারা এতো কষ্ট করে এসেছেন বলে সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি কবিকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি তিনি শত ব্যস্ততার মাঝেও আজকের এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমাদের মাঝে এসেছেন বলে। এখন কবির যাবার সময় হয়েছে। তবে তিনি ভবিষ্যতে আবারো আমাদের মাঝে আসবেন ইনশাল্লাহ। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ্‌ হাফেজ।

 

[কবি এবং মামুন উঠে লাইব্রেরির অর্থাৎ মঞ্চের বাইরে যাবার জন্য প্রস্তুত হন। যেতে যেতে ভক্তদেরকে কবি অটোগ্রাফ দেন এবং করমর্দন করেন। সবাই মঞ্চ হতে বিদায় নেন।] 

 

 

সমাপ্ত

View kingofwords's Full Portfolio
tags: