করুণ

করুণ কাহিনী! [Bangla Story]

মদন চেয়ারম্যানের একমাত্র ছেলে আপেল পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর এলাকার কিছু কুলাঙ্গার বন্ধুদের খপ্পরে পড়ে নিজেও এক মস্ত কুলাঙ্গারে পরিণত হয়েছে। ছোটবেলার যত সব বদ অভ্যাস এবং শয়তানী তার মধ্যে এখনও রয়ে গেছে।


যদিও এখন সে ত্রিশ বছরের একজন টগবগে যুবক, কিন্তু গ্রামের নিরীহ এবং শান্ত স্বভাবের মেয়েদেরকে পথেঘাটে উত্যক্ত করার ক্ষেত্রে তার জুড়ি মেলা ভার! মানুষ বয়সের সাথে সাথে কিছুটা পরিবর্তন হয়, কিন্তু আপেল যে কোন মাটি দিয়ে তৈরি তা একমাত্র আল্লাহই জানেন!


এলাকার লোকজন মদন চেয়ারম্যানকে মদন সাহেব বলেই ডাকে। তিনি তার পুত্রের এসব বখাটেপনা সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানেন। যদিও এলাকার লোকজন ভয়ে তার কাছে কোনও অভিযোগ নিয়ে আসে না, তবুও তার বিশ্বস্ত কিছু লোক আপেল সম্পর্কে তাকে প্রায়ই খবরাখবর দিয়ে থাকে।


কোনও মেয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবার সময় যদি আপেল দেখতে পায়, তবে সেই মেয়েটিকে মানুষের সামনে নানা ভাবে অপমানিত ও অপদস্ত হতে হয়। যেমন কোনও মেয়ে হয়তো বান্ধবীদের সাথে কলেজে যাচ্ছে, তখন আপেল ও তার বন্ধুরা জোরে জোরে শীষ বাজাতে থাকে এবং বাংলা সিনেমার অশ্লীল গান গাইতে থাকে। যখন মেয়েরা এসব থেকে বাঁচতে দ্রুত হাঁটতে থাকে, তখন আপেল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা পেছন থেকে মেয়েদের ওড়না ধরে টান দেয়।


রাস্তায় যখন এসব ঘটে, তখন এলাকার গণ্যমান্যরা এসব দেখেও না দেখার ভান করে। যেন একেকজন একটা উটপাখি যে মরুভূমিতে আসন্ন বালির থেকে বাঁচতে নিজের মাথাকে বালির মাঝখানে ঢুকিয়ে ফেলে এমন ভাব করে যেন কেউ তাকে দেখতে পাচ্ছে না!


সত্যি কথা বলতে কি- এর আগে যেই আপেলের বদমায়েশির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে, সে মারাত্মকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছে। তাই সবাই এখন রীতিমত নির্বাক হয়ে গেছে। নিরীহ এবং নিষ্পাপ যারা, তাদের কান্না এখন আর কেউ শোনে না, সকলের বিবেকের দরজায় যেন এক মস্ত বড় তালা ঝুলছে!


একদিন নিলুফার নামে একটা মেয়ে কলেজে যাচ্ছিল। পথে আপেল তার পথ আটকায়। নিলুফার যখন পথ ছাড়তে বলে, আপেল তখন বলে যে সে তাকে বিয়ে করতে চায়। মেয়েটি কিছু না বলে মাটির দিকে তাকাতে তাকাতে অনেক কষ্টে একটু পাশ দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।


যাবার সময় নিলুফার বারবার ভাবতে থাকে যে এ যাত্রায় না হয় অল্পতেই বেঁচে গেছে, আগামীকালও যে ঐ বদমায়েশ একই কাজ করবে না এর গ্যারান্টি কি? বিকেলে বাসায় ফিরে তার মা জুলেখাকে এ ব্যাপারটা সম্পর্কে বলে। জুলেখা তার স্বামী আকবরকে বলার সাথে সাথেই তার মাথার মগজ নরকের কুণ্ডের মত দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। আকবর নিলুফারকে কলেজে যেতে বারণ করে দেয়।


নিলুফার বাবার এমন অন্যায় আদেশ কিছুতেই মেনে নিতে পারে না। সে বাবার সাথে তর্ক করতে চায় না কারণ সে তাকে খুব শ্রদ্ধা করে। অনেকটা কইতেও পারি না সইতেও পারি না অবস্থা! সে চিন্তা করল যে মাকে বুঝিয়ে রাজী করতে পারলে মাই বাবাকে বোঝাতে পারবে।


অনেকক্ষণ অনুনয় বিনয় করে মাকে বোঝাতে সক্ষম হয় নিলুফার। যদিও মা কথা দেয়নি যে সে স্বামীকে রাজী করিয়েই ছাড়বে, তবে এটুকু বলেছে যে তার সাধ্যমত চেষ্টা করবে।


জুলেখা জানত যে বন্দুক থেকে বের হওয়া গুলিকে হয়তো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে কিন্তু আকবরের মুখ থেকে বের হওয়া কোনও সিদ্ধান্তের কথা কখনও পালটানো যায় না।


রাতে আকবর খাটে শুয়ে চোখ বন্ধ করে কি যেন চিন্তা করছে। জুলেখা তার স্বামীর জন্য পান বানিয়ে আনে। খাটের একপাশে বসে পানের খিলিটা আকবরের হাতে দেয়। আকবর চোখ বন্ধ করা অবস্থায়ই, পান নিয়ে মুখে পুড়ে দেয়। পানে চুন কম হওয়াতে সে আরেকটু চুন চায়। জুলেখা চুন এনে স্বামীর হাতে দিতে দিতেই নিলুফারের কথাটা তুলে,


- নিলুফারের ব্যাপারটা কি আরেকবার চিন্তা করে দেখা যায় না?

- কোন ব্যাপারটা?

- ঐ যে, তার কলেজে যাওয়ার ব্যাপারটা।

- ও, ঐটা, না, না, তার আর কলেজে যাওয়ার দরকার নেই।

- মেয়েটার খুব শখ- পড়ালেখা করবে, চাকরি-বাকরি করবে, সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে...

- এসব আকাশকুসুম চিন্তা বাদ দাও নিলুফারের মা! তুমি কি চাও যে রাস্তাঘাটে আমার মেয়েটা ঐ বদমায়েশ আপেলের হাতে অপদস্ত হোক, আমার মুখে চুনকালি পড়ুক?

- তুমি একটু বেশীই চিন্তা করছ?

- বেশী না, আমি সঠিক চিন্তা করছি।

- তুমি তাহলে কি চাও?

- শুনতে চাও?

- হ্যাঁ!

- আমি চাই একটা ভালো ছেলে দেখে মেয়েটাকে যত তাড়াতাড়ি পারি বিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে।

- এটা কি একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে না?

- মোটেও না। আমি এ ব্যাপারে আর কোনও কথা বলতে চাই না। নিলুফারকে বলে দিও কাল থেকে যেন আর কলেজের পথে পা না বাড়ায়।

 

        এভাবেই নিলুফারের কলেজে পড়ার স্বপ্ন বালির ঘরের মত ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। রাস্তার মাঝ বরাবর একটি লম্বা গাছ ভেঙে পড়লে যেমন পথ আটকে যায়, ঠিক তেমনি তার বাবার একগুঁয়ে সিদ্ধান্তের ফলে তার স্বপ্নের রাস্তাটি চিরতরে বন্ধ হয়।

 

        মাঝে মাঝে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে নিলুফার দেখে যে তার বান্ধবীরা একসাথে কলেজে যাচ্ছে। ওরা যখন ক্লাসে পড়ে, ঐ সময়টায় সে পাকঘরে রান্না বান্নায় ব্যস্ত থাকে।

 

        একদিন নিলুফার অদূরের পুকুর পারে একা বসে পেয়ারা খাওয়ার সময় পেছন থেকে হঠাৎ আপেল তাকে জাপটে ধরে চুমু খেতে চায়। নিলুফার অনেক কষ্টে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চায় কিন্তু ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত সে আর কোনও উপায় না দেখে আপেলের হাতে গায়ের সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে একটা কামড় দেয়। সেই কামড় খেয়ে আপেল লাঠির আঘাত পাওয়া কুকুরের মত চেঁচিয়ে ওঠে। সে তার হাত সামলাতে ব্যস্ত হতেই নিলুফার এক দৌড়ে বাড়িতে চলে যায়।

 

        পার্শ্ববর্তী গ্রামের লিটন জোয়ারদারের সাথে নিলুফারের বিয়ে ঠিক হয়। সে পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দেখতে তেমন সুপুরুষ না হলেও তার মনটা বেশ ভালো। নিলুফার যে তার জীবনসঙ্গী হয়ে সুখী হবে এতে কারো কোনও সন্দেহ নেই।

 

        কয়েক মাসের মধ্যেই বিয়েটা হয়ে যায়। আসলে বরপক্ষের তেমন একটা তাড়া ছিল না কিন্তু নিলুফারের বাবা ভাবছিলেন যে যত তাড়াতাড়ি মেয়েটাকে বিয়ে দেয়া যায় ততই মঙ্গল।

 

        বিয়ের প্রায় এক বছর পর নিলুফারের বিশেষ অনুরোধে লিটন নিলুফারের বাবার বাড়ি বেরাতে আসে। সেদিন বিকেলেই নিলুফার লিটনকে নিয়ে গ্রামে ঘুরতে বের হয়। তার ইচ্ছে যে তার স্বামী এই ছবির মত সুন্দর  গ্রামটি ভালো করে দেখুক।

 

        যে কলেজে নিলুফার পড়ত, সেই কলেজ মাঠে মেলা হচ্ছে। লিটন নিলুফারকে আলতা, চুরি ইত্যাদি কিনে দেয়। নিলুফার আনন্দে আঠখানা! লিটন তার শ্বশুর শাশুড়ির জন্যও কিছু কেনাকাটা করে।

 

        লিটন ও নিলুফার যখন বাড়ির পথে রওনা হয়, তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। গ্রামের সন্ধ্যা যেন রাত তিনটা কি চারটা। ঘুটঘুটে অন্ধকার পথে চলাফেরা করাটাও খুব কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে অনেক সময়।

 

        যাইহোক, ওরা রিক্সায় করে বাড়ি ফেরার পথে নির্জন এবং নিস্তব্ধ একটি স্থানে আপেল এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা তাদের পথ আটকায়। লিটন এবং নিলুফার সমূহ বিপদ বুঝতে পেরে চিৎকার দেবার আগেই ওরা ওদের মুখ চেপে ধরে এবং হাত রশিতে বেঁধে ফেলে। তারপর রিক্সাওয়ালাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিদায় করে আরও নির্জন একটি স্থানের দিকে যায়।

 

        জায়গাটি খুবই নিরিবিলি। নদীর পারে বিশাল বটগাছ; বটগাছের পাশেই হিন্দুদের শ্মশানঘাট। লিটনকে বটগাছের সাথে বেঁধে ফেলা হয়। অন্যদিকে নিলুফারকে লিটনের সম্মুখেই গণধর্ষণ করে ফেলে রেখে চলে যায়।

 

        রাত ১১টার দিকে কিছু হিন্দু একটি মরা লাশ নিয়ে বটগাছের পাশে আসতেই সেই ভয়ানক পরিস্তিতি দেখতে পায়। সেই দয়াবান মানুষগুলোর সহায়তায় লিটন এবং নিলুফার বাড়ি ফিরে যেতে সক্ষম হয়।

 

        নিলুফারের বাবা মা, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। সবার সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয় যে মামলা করা হবে। থানায় গিয়ে আপেলের এই কুকীর্তি সম্পর্কে বলতেই মামলা নেয়া তো দূরে থাক, উল্টো তাদেরকে অপদস্ত করে কুকুরের মত তাড়িয়ে দিয়েছে। কারোই আর বুঝতে বাকী থাকে না যে আপেল আগে থেকেই ঘুষ দিয়ে থানার অফিসারদেরকে হাতে নিয়েছে।

 

        লিটন এবং নিলুফার আর অপমানিত হতে চায় না। তারা বুঝতে পারছে যে বিষয়টা নিয়ে যত বেশী নাড়াচাড়া করা হবে, ততই নিজেদের বদনাম হবে। পরদিন লিটন নিলুফারকে নিয়ে নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। এভাবে কত নিলুফার যে বিচারের জন্য রাতের পর রাত শিশুর মত কাঁদে তার কোনও ইয়ত্তা নেই!

View kingofwords's Full Portfolio

৫০০ টাকা = একটি নবজাতক শিশু! [Bangla Story]

করিম মিয়ার তিন সন্তান। রুনা, সেলিনা এবং জাবেদ। তার স্ত্রী জরিনা বেগমের শরীরের অবস্থা খুব খারাপ। যে কোনও দিন পরপারে চলে যেতে পারে। তার উপর মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে জরিনার পেটে ভূমিষ্ঠ হবার অপেক্ষায় থাকা চার নম্বর সন্তান।

 

করিম রিক্সা চালিয়ে যা পায় তাতে সংসার চলে না বললেই চলে। রুনা এবং সেলিনা অন্যের ঘরে কাজ করে। তারা যে সামান্য কটা টাকা পায় তার সানন্দে মায়ের হাতে তুলে দেয়।

 

জাবেদের বয়স মাত্র তিন বছর। সে সারাক্ষণ তার মায়ের আশেপাশেই লাটিমের মত ঘুরঘুর করে! যেদিন করিম অসুস্থ বোধ করে, সেদিন ঘরে খাবার দাবারের ব্যবস্থা করাটা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।    

 

এমনও অনেক দিন গেছে যখন রুনা এবং সেলিনা অদূরের ডোবার পাশে জন্মে থাকা কচু গাছের লতি সংগ্রহ করে আনে। যখন ওরা পুকুর পারে কলমি শাক দেখতে পায়, তখন তাদের খুশীর বাঁধ ভেঙ্গে যায়! তুচ্ছ কলমি শাক যেন তাদের কাছে কোরমা পোলাওয়ের চেয়ে কম নয়!

 

যাইহোক, দিন যত যায়, করিম এবং জরিনার দুশ্চিন্তা ততই বাড়তে থাকে। বলাই বাহুল্য যে বর্তমানে সকলের মুখে তিন বেলা খাবার তুলে দেবার সামর্থ্য করিমের নেই, সেই অবস্থায় আরেকজন সদস্যের আগমন ক্ষণে সে এবং জরিনা কেউই আনন্দিত বোধ করতে পারছে না।

 

চতুর্থ সন্তান নেয়ার ব্যাপারে জরিনার কোনও নিষেধেই করিম বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেনি। এ কারণে বেশ মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে জরিনা করিমের সাথে কথা বন্ধ করে দিয়েছে বললেই চলে।

 

শুরুতে করিম ভেবেছিল আরেকটি সন্তানের ভরণপোষণ করাটা খুব একটা সমস্যা হবে না, কিন্তু এখন সে হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে; তাইতো বুদ্ধিমানেরা বলেন, ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না

 

অবশেষে জরিনা একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। সেলিনা এবং রুনা খুব খুশী কিন্তু করিম এবং জরিনার মনে আনন্দের ছোঁয়া লাগেনি বললেই চলে।

 

সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া ছেলের নাম রাখা হয়েছে চাঁন মিয়া। ছেলেটির গায়ের রং চাঁদের মতই সুন্দর। নামকরণটি যথার্থই হয়েছে বলা যায়। দুর্ভাগ্যবশত পরিবারে অভাব অনটন বেড়ে যায় ব্যাপকভাবে। করিম স্বামী হিসেবে মোটেও সফল নন, তবে যেহেতু তিনি একজন পুরুষ এবং একটি পুরুষ শাসিত সমাজের অংশ, তাই জরিনার কোনও অভিযোগই সে গায়ে লাগায় না।

 

জরিনার যুক্তিসংগত কোনও কথাই সে মানতে চায় না। করিম যদি স্ত্রীর কথা শুনতে থাকে, তবে তার পুরুষত্ব প্রশ্নের সম্মুখীন হবে এই চিন্তায় সে সবসময় তার জরিনার উপর চটে থাকে।

 

প্রায় কয়েকদিন পরপর চাঁন অসুস্থতায় পড়ে। তাকে সময়মত ঔষধ না খাওয়ালে মারা যাবে। জরিনার এই অবস্থায় বাইরে গিয়ে কোথাও কোনও কাজ করার সামর্থ্য নেই। সে করিমকে বারবার তাগদা দেয় যাতে কিছু একটা করে; প্রয়োজনে কারো কাছ থেকে কয়েকদিনের জন্য কিছু টাকা ধার আনতে।

 

করিম জরিনার মুখের উপর না বললেও ভিতরে ভিতরে তার পরিচিত মানুষদের কাছে ধরনা দিয়েছে কিন্তু কেউই তাকে কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। করিম অবশ্য বাসায় কাউকেই এ বিষয়ে কিছু বলেনি।

 

জরিনার দুই চোখে অন্ধকার। সে জানে না কিভাবে এই নিষ্পাপ শিশুটিকে লালন পালন করবে। একদিন করিম রিক্সা নিয়ে বাইরে গেলে জরিনা চাঁনকে নিয়ে বাইরে যায়। সন্ধ্যার দিকে করিম বাসায় ফিরে জরিনাকে না দেখে রুনাকে জিজ্ঞেস করে তার মা কোথায়। রুনা বলে যে সে নিজেও জানে না; সেলিনাও একটু আগেই বাসায় এসেছে; তারও কোনও ধারণা নেই।

 

ইতোমধ্যে রুনা প্রতিবেশী রেশমার বাসায় গিয়েও খুঁজেছে কিন্তু জরিনা সেখানেও যায়নি। ঠিক সেই মুহূর্তে জরিনা ধীরে ধীরে বাসার দিকে এগিয়ে আসে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে যেন মরুভূমিতে পথহারা মৃত্যু পথযাত্রী কোনও মানুষ যে তার দেহের সমস্ত শক্তি দিয়ে হাঁটার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না।

 

করিম বিদ্যুতের গতিতে দৌড়ে গিয়ে জরিনাকে ধরে এনে উঠোনের এক কোণায় বসায়। রুনা ছুটে গিয়ে এক গ্লাস পানি নিয়ে আসে মাকে দেয়ার জন্য। জরিনার চোখের পাতা ওঠানামা করছে না; সে একদৃষ্টে মাটির দিকে তাকিয়ে আছে।

 

করিম জানতে চায় যে চাঁন কোথায় কিন্তু জরিনার মুখ ফুটে একটি শব্দও বের হয় না। এদিকে রুনা, সেলিনা এবং জাবেদও তাদের মাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে এবং একটু পরপর জিজ্ঞেস করছে তাদের প্রিয় ছোট ভাইটি সম্পর্কে, কিন্তু জরিনা রোবটের মতই বসে আছে।

 

     একপর্যায়ে করিম জরিনার কাঁধে হাত রেখে জিজ্ঞেস করে ও জরিনা! আমরার চাঁন কই? উত্তরে নিজের কান্নার বন্যাকে সামলে নিয়ে জরিনা বলে, পাশশো টেহায় বেইচা দিসি!

View kingofwords's Full Portfolio