17 February 2014

 

আজকে সকালে ঘুম থেকে উঠে মাসজিদে যাওয়া হল না। একটু দেরী হয়ে গেলো। তাই ঘরেই নামাজ পড়ে নিলাম। কাল সারাদিন থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সারা রাস্তা এত কাদা যে রাস্তা দিয়ে হাঁটাই মুশকিল হয়ে গেছে। স্যান্ডেল এর উপরে কাদা ভরে যায়। রাস্তা থাক পিছলা। আছাড় খাবার ভয় থাকে। কাল রাতে আছাড়টা খেয়ে ভয় টা আরো বেড়ে গেছে। ভীষণ বিরক্তিকর একটা অবস্থা। নামাজ পড়ার পরে আস্তা আস্তে করে হেটে গেলাম মেহেদীকে পড়াতে। গিয়ে দেখলাম মবাইল নিতে ভুলে গেছি আর ওদের মেইন গেট বন্ধ। বাসায় ফিরে যে আসব সেই উপায় ও নেই। কয়েকবার গেট ধাক্কা দিয়ে অবশেষে রাস্তার উল্টার পাশে কাপড় ব্যবসায়ীদের একটা খাটে পা ঝুলায়ে বসে রইলাম। যদি কেউ আসে তখন তার সাথে না হয় ভিতর ঢুকে যাব। একটু পরে দেখলাম মেহেদী জানালা খুলে আমাকে দেখলো। ইশারা করে বললাম গেট খুলে দিতে। তার কিছুক্ষণ পরে ডাঃ আব্দুস সামাদ ভাই আবার জানালা দিয়ে উকি দিয়ে আমার সাথে কথা বললো। একটু পর উনার বাসা থেকে একজন লোক বের হয়ে এসে গেট খুলে দিল। এমনিতে কোন অসুবিধা ছিল না কিন্তু বৃষ্টি আর কাদাটাই যা বিরক্তিকর ছিল। সোয়েটার গায়ে ছিল কিন্তু ঠান্ডা ঠিকি লাগছিল। আমার কাশি এখনও যায় নি। সারাদিনে অনেকবার আমাকে কাশতে হয়। ওষুধ খাবার পর থেকে আমার একটা নতুন উপসর্গ শুরু হয়েছে। তা হল কিছুক্ষণ চুপ থাকলে মুখ আর জিহ্বা শুকায়ে যায়। খুব বাজে লাগে এই অনুভুতি।  কিছুই করার নাই। কবে কাশিটা সারবে সেটা জানি না। আমি অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছি না। খাবার ইচ্ছাও নাই। আমা ওষুধ খেতে ভাল লাগে না।

 

বাসার আসার পরে কিছুই ভালো লাগছিল না। ল্যাপটপ খুল এনিয়ে বসলাম। youtube থেকে কিছু এলোপাথাড়ি গান শুনলাম। মাঝে মাঝে পাপবোধ খুব গ্রাস করে নেয়। এদিকে PhD thesis competition এর documents গুলা NUS এ মেইল করা দরকার ছিল। সেগুলা করতেও আলসেমি লাগছিল। না করেও উপায় নেই। পরে ১২:৩০ এর দিলে সেগুলা মেইল করে দিলাম। নাইমার সাথে facebook এবং পরে ফোনে কথা হল তাকিয়াদের পড়ানোর বিষয়ে। আমি জানিয়ে দিলাম, আসরের নামজাএর পরে গাস্থ করে মাগরিব ওদের ওখানে গিয়ে পড়ে পরীক্ষা নিব। জোহরের নামাজ পড়ে ওদের পরীক্ষার প্রশ্ন print  করে নিয়ে আসলাম। মুহিতের সাথে একফাকে কথা বললাম। মুহিত জানালো বোনের সাথে চট্টগ্রাম যাচ্ছে। আবার আগামীকাল রাতে চলে আসবে। পারিবারিক কোন কাজে এই তাড়াহুড়া করে যাওয়া।

 

বাসায় এসে দুপুএর খাবার খেয়ে একটু ঘুম দিলাম। ঘুমের মধ্যেই শীত লাগছিল কিঙ্গ গায়ে কিছু দেবার ইচ্ছা করছিল না। ঘুমের মধ্যেই টের পেলাম আসরের আজান হচ্ছে কিন্তু এত ক্লান্ত লাগছিল যে উঠতে গিয়ে দেরী করে ফেললাম। পরে দ্রুত ওযু করে কাপড় পরে BRTA মাসজিদে গিয়ে আসরের নামাজ পরে গাস্থ করলাম। মাগরিবের নামাজের আগে বাইশটেকি চলে এলাম। নাইমাদের বাসার কাছে আসতেই আযান দিয়ে দিল। বাসায় না ঢুকে আগে মাসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে এরপর বাসায় গেলাম। ফুয়াদ রা আগেই এসে বসে ছিল। ওদের পরীক্ষা নিলাম। কিন্তু ওদের প্রস্তুতি খুব একটা সুবিধার ছিল না। যাই হোক ওরা খুব ভয় ভীতি মনে নিয়ে পরীক্ষা দিতে বসল। তাকিয়া আর আয়েশা খুব সাবলীল ভঙ্গি নিয়ে বসে থাকলেও ফুয়াদ ছিল খুব নার্ভাস। আমার শাশুড়ী আর ভাবী দেখলাম চিতৈ পিঠা বানাচ্ছে। আমাকে খেতে দিল। গরুর মাংশ ভুনার সাথে চিতই পিঠা খুব ভাল লাগলো। নাইমা দেখালো যে একটা নতুন সোনার আংটি কিনেছে। ওর আঙ্গুলে খুব মানাচ্ছে। সামিরা’র বিয়ের জন্য গহনা’র order দেয়া হয়েছে। সেই সাথে ও ওর পুরান দুইটা আংটি আর ৩০০০/= দিয়ে এই নতুন আংটিটা কিনেছে। ওতার দাম ছিল ৮০০০/= টাকা। আমার খুব ভালো লেগেছে। design টা খুব সুন্দর। সারাক্ষণ আঙ্গুলে দিয়ে রাখার জন্য কিনেছে।  রাতে চলে আসার আগে আবার একটু চাপটি খেলাম গরুর মাংশ দিয়ে। সেই সাথে দুই চামচ নুডলস। এরপরে বসায় চলে আসলাম।

 

এখন গরম চা খাচ্ছি আর লিখছি। একটু পরে ঘুমিয়ে পড়বো। কাল কোচিং এ ক্লাস নিতে হবে দুই বেলা। এদিকে মেহেদী কে কখন পড়াবো সেটাও ভাবছি। ফুরাদ রাও মনে হয় কাল পড়তে পারে। এদিকে নাইমার চেক আপ এর সময় গেছে। কাল appointment নেয়ার কথা। কাল গেলেও আমি হয়ত সাথে যেতে পারবো না। ভাবীকে হয়ত সাথে নিতে হবে। বাসায় ফেরত আসার পথে নিম্মি আপু আর ওরিন এর সাথে দেখা। এভাবে দেখা হবে আসা করি না। কথা হল। ও জিজ্ঞাসা করল ছেলের বাপ হচ্ছি না মেয়ের বাপ। আমি জানালাম, এখনও জানি না। আল্লহ পাক যা দিবেন তাতেই খুশি। আসলেই তাই। কি হবে আগে ভাগে এসব জেনে?  

View shawon1982's Full Portfolio