12 - 16 February 2014

 

 

নাইমা, শুরুতেই তোমাকে বলে রাখি- ডায়রীতে মানুষ তার নিজের কথাকে নিজের মত করে লিখে। এখানে কোন লেখা পড়েই আমাকে charge করে বসাটা আমার জন্য ভীষণ embarrassing একটা ব্যাপার। তুমি তো তোমার লেখা পড়তেই দাও না। সেখানে আমার লেখা পড়েই kindly সব ব্যাপারে জানতে চেও না। মুহিতদের ব্যাপারে তোমার unnecessary আপত্তি দেখলাম। এর মূল কারণ হল আমার এক ঘন্টা দেরীতে ঘরে আসা তাই না? আর আমি কেন ওদের সাথে মিশি এইত? অবশ্যই কারণ আছে। মূল কারণ ওদের সাথে দীনী একতা সম্পর্ক কায়েম করা। আর ওরা আমাকে খুব respect করে। আমি চাই, ওরা আমার কিছু ধারা শিখে যাক। কারণ আমি যখন থাকবো না, ওরা তখন মহল্লায় থাকবে। আমি ওদেরকে পছন্দ করি ওদের অত্যাধিক সুন্দর মন মানসিকতার জন্য। আমি ছোটবেলা থেকেই মহল্লায় কারো সাথে কখনো আড্ডা দেই নি। কিন্তু এখন যে ওদের সাথে regular আড্ডা দেই তা তো না। দুইদিন একটু দেরী হওয়া মানেই তো খারাপ কিছু না। আর ওদের জন্য আমার অবশ্যই একটা soft-corner তৈরী হয়েছে। সেটা তো দোষের কিছু না। anyway তুমি তোমার মতই react করবে সেটাই স্বাভাবিক। কাল থেকে যেমন আব্বু তার নিজের মত করে react করে যাচ্ছে। আমার সাথে তেমন কথা বলছে না। উনার সব ভালোলাগা যে আমার ভালো লাগবে সেটা হতে পারে না। তোমার আমার ক্ষেত্রেও সেটা স্বাভাবিক।

 

 

 

সকালে ফজরের নামাজ ঘরেই পড়তে হল। কারণ আজকে ঘুম থেকে উঠতে দেরী হয়ে গেলো। জামাত পাবার সম্ভাবনা ছিল না। পরে হাল্কার মাশওয়ারাতে গেলাম। গিয়ে দেখি মিল্টন ভাই ও গিয়েছে। ওকে আসা করি নাই। ওকে দেখে খুশি লাগল। কারণ মিল্টন ভাই এর তাবলীগের কাজে ইদানিং খুব আগ্রহ দেখছি। প্রতিদিন সকালে আমাদের মাশওয়ারাতে বসে। সেদিন গাস্থ ও করেছে। আজকে মাশওয়ারা থেকে ফেরত আসার পথে আমাকে কিছু শব্দার্থ জিজ্ঞাসা করল। যেমন- তাশকিল, রাহাবার, শবগুজারী, কারগুজারী, মুতাকাল্লিম ইত্যাদি। ওর আগ্রহ আছে বোঝা যাচ্ছে। ঘরে ঢোকা মাত্রই ডাঃ আব্দুস সামাদ ভাই এর ফোন। উনি উনার বাসায় যেতে বললেন। সেই ছাত্রের সাথে দেখা করার জন্য। আমি তখনই আবার সাদা পাগড়িটা পরে বের হয়ে গেলাম ঘর থেকে। আজ সকাল থেকে শুরু হল আমার নতুন টিউশনি। এখনও ঘরে নাইমা ছাড়া আর কেই জানে না। জানাতে চাই না। এরপর সারাদিন আর কি কি করলাম আমার ঠিক মনে পড়ছে না। কারণ আমি ৪ দিন পরে লিখতে বসেছি। শুধু মনে আছে রাতে, মুহিত শোয়েব আর তোফায়েল কে নিয়ে চা খেতে গেলাম ১০ নাম্বার এ। ঘরে এসে প্রথমেই আমি renata pharma এর জন্য আমার করা রিপোর্টটা লিখে শেষ করলাম। দুইটা ডাটা বসানো বাকী ছিল। শেষ করে আরিফকে মেইল করে দিলাম। আমার ইচ্ছা ছিল এই লেখাটা জমা দিয়ে এরপর টাঙ্গাইল যাব জামাতের নসরতের জন্য।

 

 

 

পরদিন সকালে মিল্টন ভাই আমাকে গাড়ীতে করে দিয়ে আসলো মহাখালী ভাস টার্মিনালে। নেমেই বাস পেয়ে গেলাম। লোকাল বাস। ওরা বলল সময় লাগবে ৩ ঘন্টা এর মত! যেটা মোটেও ঠিক না। সখিপুর যেতে বেজে গেল প্রায় ২ টার মত। ওখান থেকে নেমে আবার স্কুটার শেয়ার করে যেতে হল বহেরাতৈল বাজারে। ওখানে যাওয়ার পরে দেখা হল আসিফ আর মাহবুব ভাই এর সাথে। আমাকে নিয়ে যেতে এসেছে। ওদের সাথে fizz-up খেলাম। এরপর আবার লোকাল স্কুটার শেয়ার করে রওনা দিলা গোহাইলবাড়ী মাসজিদের উদ্দেশ্যে। ওখান থেকে আরও ৩ কিলোমিটার প্রায়। সারা রাস্তা ধুলা আর ধুলা! ধুলার রাস্তা বলতে যা বুঝায় তাই! মাসজিদে যাবার পরে সবাইকে দেখে খুব ভালো লাগলো। আমার প্রতি উনাদের আন্তরিকতার কোন তুলনা নাই। যথারীতি আমার জন্য মাগরিবের পরের বয়ানের আমল দেয়াই ছিল! না করলেও হবে না!

 

 

 

পরের দিন শুক্রবার সকালে সিরাজউদ্দৌলা আঙ্কেল জানালো, আজকে ‘খরচ’ আছে। আমি বললাম, কিসের খরচ? উনি বললেন, একটু পরেই জানতে পারবা। আমির সাহেব তোমাকে বলবে। বলেই হাসতে লাগলেন। পরে বুঝলাম, ওখানে এক লোক সওয়াব রেসানীর জন্য বিশাল আয়োজন করে মানুষকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াবে। ওখানে জামাতের সবাইকে দাওয়াত। ফজরের পরই! বুঝলাম টাঙ্গাইলের লোকাল ভাষায়, এই মানুষ খাওয়ানোর যে রেওয়াজ এটাকেই উনারা খরচ বলেন! ওখানে গিয়ে দেখি এলাহী কান্ড। সকালে গিয়েই দেখি সামিয়ানা তাঙ্গানো, টেবিল চেয়ার পাতানো। একেবারে বিয়তে বাড়ির মত আয়োজন! কয়েকজন ছেলে ছোটাছুটি করে খাবার এগিয়ে দিচ্ছে অতিথিদের। আমরা সকালে গিয়েও প্রথম ব্যাচ পেলাম না। অপেক্ষা করতে হল। খাবারের আয়োজন দারুন! সাদা ভাত, গরুর মাংস, সবজি লাবড়া আর সাথে মাশকলাই এর ডাল! একজন এসে প্লেটে দুই মুঠ ভাত দিয়ে যায়! এরপর একজন আসে সবজি নিয়ে। তারপরে একজন মাংশ দিয়ে যায়। এপর ডাল তো আছেই। দোয়ার পরে খাওয়া শুরু হল। আতিথেয়তায় কোনরকম কার্পণ্য ছিল না। প্রচুর খাবার ছিল। আমরা খুব তৃপ্তি নিয়ে খেলাম। খেয়ে আবার মাসজিদে চলে আসলাম। মাসদিজের কাছেই রাস্তার মোড়ে চায়ের দোকান ছিল। দিয়ে প্রায় দুই তিনবার ওখানে গিয়ে চা খাওয়া হত। আমি একসাথে দুই কাপ করে খেতাম। ভালই লাগতো। কড়া লিকার দেয়া চা। সেই সাথে পাওয়া যেও ছোটো ছোট করে ডুবা তেলে ভাজা পিয়াজি! দারুন মজা। অথচ খাওয়ার সময় একটুও তেল লাগত না। একদম শুকনা।  গ্রাম হিসাবে বিক্রি করে। ৫০ গ্রাম ৫/= করা। দুই দিনই চায়ের সাথে খেলা সেই পিয়াজি!

 

 

 

দুপুরে জুমু’আর নামজের আগে খতিব সাহেব এসে জানালেন আমাদের জামাতের তরফ থেকে জুমা’র বয়ান করার জন্য। আমার উপ্রএ জামাতের তরফ থেকে আগেই দায়িত্ব দেয়া ছিল। জুম’আর বয়ান শুরু হল ১২:৫০ আর শেষ হল ১:১৫ তে। বয়ানের পরে কাতারে যখন বসলাম তখন খতিব সাহেব আমাকে আস্তে করে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি দাওরা পাস করছেন কোথা থেকে?’ আমি উত্তর দিলাম, আমি general লাইনে লেখাপড়া করেছি। দাওরা করি নাই। উনি শুনে বললেম, ‘ওরে আল্লহ! কি করে?’! এরপরে উনি আমাকে বললেন, জুমু’আর নামাজ পড়াতে। আমি বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করলাম। নামাজ পড়ানো আমাদের কাজ না! এটার দায়িত্ব যার সেই করুক! গোহাইলবাড়ী মাসজিদের মুয়াজ্জিন সাহেব ও মাদ্রাসার ছাত্র এবং খুব সম্ভবত হাফেজ! পড়া খুব সুন্দর। আমাদের আমলে বসতেন। দুপুরে বয়ান চলাকালীন সময়ে জয়নাল ভাই চলে এলেন। বহেরাতৈল বাজার থেকে উনাকে নিয়ে আসলো আসিফ আর মাহবুব ভাই। উনার উপরে মাগরিবের বয়ানের দায়িত্ব দিয়ে দিলেন সিরাজউদ্দৌলা আঙ্কেল। আমলটা উনার ছিল। আমার উপরে মুজাকারাও ছিল। দুপুরে মুজাকারা করার সময়ে দুইজন ভদ্রলোক মুরুব্বী এসে জুমা’র বয়ানের খুব প্রসংশা করলেন। উনাদের একজন চোখে কম দেখে। কারণ উনার cornea transfer করা হয়েছে। মরনোত্তর চক্ষুদান এর ব্যাপার নিজের চোখে এই প্রথম দেখলাম। লোকটার চোখের দিকে তাকায়ে আমার গা ছমছম করতে লাগলো। একজন মরা মানুষের চোখ লোকটাকে দেয়া হয়েছে। উনি একটা ধর্মগবেষণাগার আর একটা মেহমানখানা খোলার কথা জানালেন। উনি উনার মতামত জানালেন। আমরা বললাম দোয়া করার জন্য। উনি জাবার পরে মুজাকারা করা হল। নজমী আমলের তারতীব এর উপরে। প্রএ জানিয়ে দিলাম, রাতে আল্লহ’র রাস্তার ফযীলত এর উপরে মুয়াজকার হবে এবং সবাইকে অংশ নিতে হবে।  

 

 

 

আমিয়া র জয়নাল ভাই ঠিক করে নিলাম যে আমরা আগামীকাল অর্থাৎ শনিবার ১০টার দিকে বের হয়ে আসব ওখান থেকে। প্রথমে যাব জয়নাল ভাই দের বাসায়। ওখান থেকে জোহর আর আসরের নামাজ শেষ করে আমরা ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে আসব। সে পরামর্শ মত আমরা উনাদের বাসায় গেলা। যোগাযোগ ব্যবস্থা ঐ আগের মতই। কোন বাস চলে না। শেয়ার করে স্কুটার আর ভ্যান এ করে যেতে হয়। ভাড়া পড়ে যায় অনেক বেশী। আমরা জয়নাল ভাইদের বাসায় গেলাম ১২ টার দিকে। উনাদের বাড়ীতে উয়ান্র বাবা, মা, ভাবী এর উনার ছোট্ট ভাতিজা নাবিল থাকে। উনাদের বাসাটা খুব সুন্দর পরিপাটি করে সাজানো। আমাকে নানা রকমের নাস্তা খেতে দিল। গাছের পাকা পেপে, বরই এর আচার, বিস্কুট, চানাচুর! এত কি খাওয়া যায়? এদিকে দুপুর হয়ে আসছে। উনাদের বাড়ীর সাথেই উনার ওয়াকফ করা জমিতে একটা হাফেজী মাদ্রাসা আর মাসজিদ আছে। আমরা ওখানে জোহরের নামাজ পড়তে গেলাম। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী জোহরের নামাকের পরে মুসল্লী আর ছাদ্রদের উদ্দেশ্যে দাওয়াতের কাজের গুরুত্ব নিয়ে সংক্ষেপে কিছু কথা বললাম। এরপরে দুপুরের উনাদের বাসায় এসে খেতে বসলাম। জয়নাল ভাই আমার যাওয়ার কথা বলে দিবেন আর উনারা আমাকে আপ্যায়ন করবেন না তা কি হয়! জয়নাল ভাই এর বাবার সাথে এবছর এস্তেমা থেকে আগেই পরিচয় ছিল। খেতে বসে প্রথমেই পেলাম খেজুরের গুড়ের পায়েশের মিষ্টি গন্ধ! এরপরে পোলাও, গরুর মাংশ, পাতাকপি ভাজি, সালাদ, মাশকলাই এর ডাল! অসাধারণ প্রতিটা খাবার। খাবারের গুনে খাবার কতটা অসাধারন সেটা তো আর লিখে বোঝানো যাবে না, কিন্তু উনাদের আদর আপ্যায়ন কখনও ভোলার না! আমাদের হাতে সময় থাকলে চাচা কিছুতেই আমাদের ওইদিন আসতে দিতেন না। কিন্তু না এসে উপায় ছিল না। পরের দিন রবিরার জয়নাল ভাই এর অফিস ছিল আর ছিল দুইবেলা কোচিং এর ক্লাস। দুপুরের খাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে গেলো টিপ টিপ বৃষ্টি! ভাললাম হয়ত কিছুক্ষনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। ক্লান্ত লাগছিল বেশ। আমি ওই ঘরেই পাতা খাটে একটু শুয়ে পড়লাম। নাবিল এর দেখা পাচ্ছিলাম মাঝে মাঝে। ১৬ মাস বয়স বাচ্চাটার। খুব দুষ্টু! আল্লাহ বলতে বললে মাথা দেখায়। একটা ডলফিনের বেলুন বারান্দায় ঝোলালো ছিল বাচ্চাটার খেলনা। মাছ বলতে পারে না। একটু একটু পর পর টান দিয়ে বলে, “মা...” আর আঙ্গুল দিয়ে মাছটা দেখায়। জয়নাল ভাই এর সাথে ভাতিজার খুব খাতির। আমি অনেক চেষ্টা করেও খাতির জমাতে পারলাম না। আমার কাছে আসতেই চাইল না।

 

 

আধা ঘন্টার জন্য ঘুমালাম। কিন্তু ঘুম থেকে উঠেও দেখি বৃষ্টি কমার নাম নাই। কিভাবে যাব একটু দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। চাচা তো বারবার বলতে লাগলেন থেকে যেতে কিন্তু আমাদের যে উপায় নাই। বৃষ্টির মধেই ছাতা দিএয় মাসজিদে গিয়ে আসরের নামাজ পোড়ে আসলাম। এরপরে চাচা উনার মটর সাইকেলে করে আমাকে নিয়ে আসলেন বাটাজোর বাজারে। পথিমধ্যে অন্য এক প্রতিবেশীর মটর সাইকেলে জয়নাল ভাই ও গেলেন। বাটাজোর থেকে আমরা চাচার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আবার একটা শেয়ার স্কুটার এ উঠলাম ময়মনসিংহ ‘সীড স্টোর’ বাজারের যাওয়ার জন্য। ওখান থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দুরত্ব। seed store কথাটাকে আমি বার বার শুনছিলাম ‘সিস্টো’। প্রথমে বুঝি নাই। পরে জয়নাল ভাই বুঝিদ্যে দিলেন। উনাদের গ্রামের নাম ছিল পাথার। ওখান থেকে ময়মনসিংহ খুব কাছেই। উনারা ঢাকা এভাবেই আসেন। সীড স্টোর বাজারে যেতেই মাগরিবের আযান হয়ে গেল। বাজারের সাথেই বড় এবং অনেক পুরানো মাসজিদ। নামাজ জামাতে পড়ে নিলাম। এরপরে উলটা দিকের রাস্তায় এসে বাসের প্রতীক্ষা। এক এর পরে এক বাস আসে কিন্তু লোক বোঝাই। কি কর উঠবো বুঝতে পারছিলাম না। বেশ কয়েকটা বাস অতিক্রম করে চলে গেল। কিন্তু আমাদের মনপুত হল না। এরপর একটা বাস এলো। আমাদের বলল, আমাদের দুইটা সীট দিতে পারবে। উঠে পড়লাম। উঠে দেখি কোন সীট নাই। আমাদের একটা সীটের সামনে দাড়াতে বলল। দুইটা অল্পবয়স্ক ছেলে বসা ছিল। মিনিট দুইপরেই ওরা নেমে গেল। আমরা সীট পেয়ে গেলাম। আর চিন্তা রইল না। মাঝে মাঝে ঘুমালাম, মাঝে মাঝে বাইরের দৃশ্য দেখতে লাগলাম। রাস্তায় কোথাও কোথাও জ্যাম ছিল। বৃষ্টি তো ছিলই বিরতিহীন। আমরা সিধান্ত নিলাম আব্দুল্লাহপুর নেমে যাব। কারণ ওখান থেকে মিরপুরের বাস পাওয়া খুব সহজ। আব্দুল্লাহপুর নামতে নামতে ১০ টার বেশী বেজে গেল। কিছুদূর হেটে গিয়ে প্রজাপতি নামে একটা বাস পেলাম ফাঁকা।

View shawon1982's Full Portfolio