২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

আমার অন্যতম সেরা একটা বদ-অভ্যাস হল কাজ জমিয়ে রাখা। মাঝে মাঝে এমন আলসেমিতে পেয়ে বসে যে অনেক কাজ করি করি করেও ঠিক করা হয় না। দেরী হয়ে যায়। কাজ করতে বসলে মনে হয় ধুর ভাল্লাগেনা! একটু পরে করি। এই পরে পরে করতে করতে যখন শেষ সময় এসে যায় তখন নাকে মুখে করতে হয়। এরজন্য আমাকে কম ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। নাকে মুখে কাজ করা যা কতখানি অশান্তির ব্যাপার সেটা যারা করেন তারা বোঝেন। এখন অবশ্য আমার উচিত শিক্ষা হয়ে গেছে। এখন আর কাজ জমায়ে রাখতে চাই না। হাতের কাজ হাতে হাতে সেরে ফেলতে চেষ্টা করছি। সময়ের কাজ যদি সময়ে করে ফেলি তাহলে দেখি আর অশান্তি লাগে না। বরং হাতে আরো কিছুটা সময় পাওয়া যায়।

 

পরীক্ষার সময় অনেক খাতা একসাথে চলে আসে। সেগুলো চেক করা, নাম্বার যোগ করা, খাতায় তোলা, রেজাল্ট পাবলিশ করা, বেশ অনেকগুলো কাজ। মাঝে মাঝে দেরী করে ফেলাটা যেমন আমার একটা দোষ, আবার যখন কাজ করা শুরু করি তখন, একটানা কাজ করে যেতে পারি। এমনও সময় কখনও গেছে যখন আমি কয়েকদিনের কাজ এক বসাতেও শেষ করে ফেলেছি। খাতা দেখতে বসে, একসাথে একটা দুইটা কলম শেষ করে ফেলসি। হয়, এমনও কখনও হয়। সময় বদলায়। আমরাও বদলাই। তবে এখন প্রতিজ্ঞা করে নিয়েছি, আর কাজ।  জমিয়ে রাখবো না। কষ্ট হলেও সময় মতই শেষ করে ফেলবো।

 

এইত গত ডিসেম্বরের কথা। পাঁচ বান্ডেল খাতা নিয়ে আমার সে কি যন্ত্রণা। সেই সময় মেয়েটার হল মুখে আলসার! সারা মুখ সাদা হয়ে গেল। কিচ্ছু খেতে পারে না বাচ্চাটা। মুখের ভেতর মলম দিতে গেলে কাঁদে। এই অবস্থায় নাকে মুখে আমাকে খাতা দেখে একদিনের মধ্যে ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট তৈরি করে দিতে হল। আমি সবার পেছনে পড়ে গেলাম। সহকর্মী ডঃ ফাহিম কবিরের কাছে চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকবো। যখন নাকে মুখে কাজ করেও আর পারছিলাম না, তখন ফাহিম আমার তিন বান্ডেল খাতার নাম্বার ফাইলে তুলে দিয়েছে। বিপদের মুহুর্তে এটা যে কত বড় সাহায্য ছিল সেটা ভুক্তভোগীরা ছাড়া আর কাউকে বলে বোঝানো যাবে না। আল্লাহ ওর মঙ্গল করুণ।

 

আবার পুরানো দিনের কথা মনে পড়ে। যখন স্কলাসটিকা স্কুলে ছিলাম, তখন কত রাশি রাশি খাতা মুহুর্তের মধ্যেই দেখে শেষ করে ফেলতে পারতাম। অবশ্য একটা ব্যাপার আছে। ওখানে আমি অঙ্কের শিক্ষক ছিলাম। আর এখন তো রসায়নের শিক্ষক। দুই খাতা দেখার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। অঙ্কের খাতা অনেক দ্রুততার সাথে দেখে ফেলা যায়। কিন্তু রসায়ন তো একটু হলেও পড়ে দেখতে হয়। এজন্য সময় একটু বেশী লেগেই যায় আর কি। স্কলাসটিকাতে থাকতে আমি আমার নিজের সব খাতা দেখা শেষ করে, অন্যান্য অনেকের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর মুহুর্তের মধ্যে দেখে দিতাম। এতে অনেকের উপকার হত। আবার সবাই অনেক বিস্মিত হত যে আমি এত দ্রুত কিভাবে খাতা দেখে ফেলছি। আমি শিউলি আপার বাংলা খাতাও দেখেছি দুই এক দফা। ব্যকরণের অংশটুকু! ভালই লাগতো দেখতে। মাহফুজ স্যারের অ্যাকাউন্টিং, ফারিশ্তে মাওলা মিসের রসায়নের খাতা দেখেছি। একবার পরীক্ষার জন্য ওয়াসফির ম্যাথ খাতা বিনিময় করেছিলাম। ওরটা আমি দেখে দিয়েছিলাম, পরে পরীক্ষা দিয়ে ও আমার খাতা দেখে দিয়েছিল। শাহনেওয়াজের খাতাও দেখে দিয়েছিলাম। এগুলো এখন সবই অতীত। মনে পড়ে। ভাল লাগে পুরনো দিনের স্মৃতি মনে করতে। তবে যত দিন বাড়ে তত ধৈর্য্য কমতে থাকে এই আর কি। জানি না এইভাবে কয়দিন চলবে! কয়দিনই বা বেঁচে থাকবো। আচ্ছা আমরা যদি জানতাম আমরা ঠিক কখন মরে যাবো, তাহলে কি আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাপন এমন হত? মাঝে মাঝে এই প্রশ্নটা আমাকে ভাবিয়ে তোলে।  

View shawon1982's Full Portfolio